Connect with us

প্রধান প্রতিবেদন

আবাসন খাতে বিনিয়োগ কী লাভজনক?

আবাসন খাতে বিনিয়োগ করাকে অত্যন্ত লাভজনক বলে মনে করেন রিয়েল স্টার প্রোপারটিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সৈয়দ আব্দুলাহ শাওন।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দিক থেকে এই ধারণার ভিন্ন মতও আছে। যেমন, স্বপ্নের নগরী রাজধানী ঢাকায় একটা ভাল লোকেশনে একটা মাঝারি আকারের ফ্ল্যাট কিনতে কম করে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা লাগবে। অনেকেই মনে করেন যে, এই টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট না কিনে, সে টাকাটা যদি কোন একটা ব্যাংকে এফডিয়ার করে রাখি, তাহলে সেখান থেকে যে লভ্যাংশ পাবো, সে টাকা দিয়ে তো আমি ঢাকার একটা ভাল লোকেশনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতে পারি। এটা সত্য।

এ প্রসঙ্গে আবাসন খাতের এই উদ্যোক্তা বলেন, এই খাতের ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি, আবাসন খাতে বিনিয়োগ মানে সম্পূর্ণ একটা হালাল বিনিয়োগ। এখন টাকার অংকের হিসেবে যদি আসি, তাহলে বছরে ওই ব্যক্তি ১০% লভ্যাংশ পাবেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি যদি আবাসন খাতে আসেন তাহলে এখানে জমির দাম বা ফ্ল্যাটের দামই হোক, বছরে কিন্তু ১০% এর চেয়ে বেশি করে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রিয়েল স্টার সোসাইটির এই চেয়ারম্যান বলেন, আবাসন খাতে সাধারণ ক্রেতারা ইএমআই ব্যবহার করে ফ্ল্যাট কিরতে পারছেন। সব সময় যে নগদ টাকা দিয়ে যে তাকে ফ্ল্যাট কিনতে হচ্ছে বিষয়টা তেমন না। তার তো দেড় কোটি টাকা একঙ্গে দেওয়ার দরকার নেই।

ক্রেতাদের ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে একটা পরামর্শ দিয়ে রিয়েল স্টার প্রোপারটিজ লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, একজন ক্রেতা এভাবে তার দেড় কোটি টাকাকে ভাগ করে নিতে পারেন। যেমন, ফ্ল্যাটের এক কোটি টাকা ব্যাংকে রাখলেন। সেখান থেকে ক্রেতা একটা লভ্যাংশ পাবেন। বাকি যে তার ৫০ লক্ষ টাকা থাকলো সেটা দিয়ে তিনি একটা ফ্ল্যাট বুক করতে পারেন। ফ্ল্যাট বুকিংয়ের দুই বছর পরে হয়তো তিনি ফ্ল্যাটটা বুঝে পাবেন। বাকি যে ব্যাংকে টাকা থাকল সেখান থেকে ক্রেতা ইএমআইয়ের টাকা দিলেন। এ প্রক্রিয়ায় একজন ক্রেতা দুই বছরের মধ্যে একটা ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারছেন।

Advertisement

সৈয়দ আব্দুলাহ শাওন বলেন, অন্যদিকে কোন ক্রেতা যদি ভাড়া বাসায় থেকে ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন তাহেলে প্রতি বছর কিন্তু একটা ফ্ল্যাকচুয়েশন হচ্ছে। একদিকে ব্যাংক থেকে ১০% লভ্যাংশ দিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৬-৭% ফ্ল্যাকচুয়েশন হচ্ছে। সব মিলে তিনি ৩% লাভ করছেন। ওই ক্রেতা যদি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বা নিজের টাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনে, তাহলে সেটার সব টাকা পরিশোধ হতে ১৫-২০ বছর লেগে যাবে। এরপর তিনি ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে যাবেন। কিন্তু ১৫ বছর ধরে যদি ভাড়া বাসায় থাকেন, ব্যাংকে যে টাকাটা আছে, সে টাকাটা ফ্ল্যাকচুয়েশন হয়ে ১৫ বছর পরে কিন্তু ১৫ বছরের আগের মূল্য পাবেন না।

স্টার অ্যাগ্রর এই ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, অন্যদিকে, আপনি যদি এখন কেউ ফ্ল্যাট কেনার চেষ্টা করেন তাহলে ১৫ বছর পর তিনি ওই ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে যাবেন। আমাদের দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০-৭২ বছর। একজন ক্রেতা ৩০-৩৫ বছর বয়সে যদি ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করেন, আর আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখেন, তাহলে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে একটা ফ্ল্যাটের মালিক হয়ে যাবেন। গড় আয়ু হিসেব করলে তিনি আরও ২০-২২ বছর ফ্ল্যাটটা ভোগ করতে পারবেন। তার যে ছেলে-মেয়ে, তারপরের প্রজন্মের জন্যও একটা ফ্ল্যাট রেখে যেতে পারছেন। শুধু তাই নয়, তার যদি কোন বিপদ-আপদ হয়, তাহলে যেকোন সময় ফ্ল্যাটটি বিক্রি করতে পারবেন। সেটাকাটা তুলে আনতে পারবেন।

তিনি বলেন, এখানে ফ্ল্যাকচুয়েশনের ঝুঁকিটা নাই। ফ্ল্যাকচুয়েশন হয় তখন, যখন ফ্ল্যাটের দাম কমে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এখন ফ্লাটের দাম কমে যাওয়ার সুযোগ নেই, প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ব্যাংকে যদি টাকা রাখেন তাহলে ফ্ল্যাকচুয়েশনের কারণে ১০% লভ্যাংশ পাচ্ছেন। কিন্তু ফ্ল্যাকচুয়েশনটা যখন সমন্বয় করবেন তখন ১০% হয়ে যাবে ৩%। সুতরাং কেউ যখন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা তখন জবি বা ফ্লাট দুটিই সব সময়কার জন্য লাভজনক বিনিয়োগ।

আবাসন সংবাদ

ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে এমন মত দিয়েছেন ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞরা।

গত শুক্র ও গতকাল শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্পের ঘটনা এমন ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা যত কম হবে, তত বেশি ঝাঁকুনি হবে। শুক্রবারের ভূকম্পনের তীব্রতা ছিল স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এ ভূমিকম্পের ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। আহত হন ৬ শতাধিক মানুষ।

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এবং সাড়ে সাত ঘণ্টার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আরও একটি ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এ ভূমিকম্প দুটোরই উৎপত্তি ছিল নরসিংদী। সন্ধ্যায় কাছাকাছি সময়ে আরও একটি ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডা; যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭।

এসব মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন ভূমিকম্প ঢাকার ঝুঁকি কতটা স্পষ্ট করছে, তা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে।

Advertisement

আবহাওয়া অধিদপ্তরের নথিভুক্ত ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে ৩৯টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে। এর মধ্যে ১১টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে। অর্থাৎ ২৮ শতাংশের বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ৩ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৭। এর মধ্যে শুক্রবার নরসিংদীতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার (৫ দশমিক ৬) ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ঢাকার ১০০ থেকে ২৬৭ কিলোমিটারের মধ্যে বাকি ২৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল।

পাঁচ বছরে ১৮ জেলায় ভূমিকম্প হয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, রংপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, পাবনা, হবিগঞ্জ, রাঙামাটি, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, যশোর ও কুড়িগ্রাম।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রে একসময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন মো. মমিনুল ইসলাম। এখন তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নরসিংদীতে এর আগেও ভূমিকম্প হয়েছে। তবে মাত্রা ছিল কম। বাংলাদেশের সীমান্তে তিনটি টেকটনিক প্লেট আছে। এই তিনটি প্লেটই সক্রিয়। প্রতিনিয়ত এখানে ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। প্লেট বাউন্ডারির পাশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকে।

মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে একটি সাব-ফল্ট রয়েছে। নরসিংদীতে আগে ছোট ভূমিকম্প হলেও গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এখন বোঝা যাচ্ছে, এই সাব-ফল্ট অনেক বড়। এটা ঢাকার কাছ পর্যন্ত চলে এসেছে। এই ভূমিকম্প প্রমাণ করল ঢাকা বড় ঝুঁকির মধ্যে।

বেশি ভূমিকম্প রাতে
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হওয়া ৩৯টি ভূমিকম্প কোন সময় হয়েছে, সেটিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে এসেছে। এতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভূমিকম্প হয়েছে রাতে। যেমন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়ে ভূমিকম্প হয়েছে ২৩টি। বাকি ১৬টি ভূমিকম্প হয়েছে দিনের বেলায় (ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা)।

Advertisement

রাতে বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে অথবা বাসায় থাকে। এমন সময়ে ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যে পরিমাণ ভূমিকম্পের শক্তি সাবডাকশন জোনে (দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থল) পুঞ্জীভূত হয়ে আছে, তার ১ শতাংশের কম নির্গত হয়েছে। ফলে বারবার হওয়া এই ভূকম্পগুলো বড় একটি ভূমিকম্পের পথ খুলে দিয়েছে।

অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার আরও বলেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর ‘আফটার শক’ হবে, এমনটা আগেই ধারণা করা হয়েছিল। তবে আফটার শকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভূ-অভ্যন্তরের যে ফাটল বা ফল্ট লাইনটি এত দিন ধরে প্রচণ্ড চাপে একে অপরের সঙ্গে আটকে ছিল, তা নড়তে শুরু করেছে এবং শক্তি নির্গমনের একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে। এমন আফটার শক হতে হতে বড় ভূমিকম্প হবে। সেটা খুবই নিকটে হতে পারে।

ঝুঁকির চার কারণ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব হাসান চারটি কারণে ঢাকার বিপদটা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উৎপত্তিস্থল থেকে ঢাকার নৈকট্য একটা কারণ। ঢাকার কাছে এ ফল্টটা সম্পর্কে এত স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সেটা এখন খুলতে শুরু করেছে। যার প্রভাবে সামনে আরও ভূমিকম্প হতে পারে।

মাটির গঠনকে দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রাকিব হাসান বলেন, ঢাকার নতুন অংশগুলো খুব নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে গড়ে উঠেছে। এমন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তৃতীয়ত, ঢাকার ভবনগুলো ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ডিজাইন কোড মেনে হচ্ছে না। চার নম্বর হলো ঢাকা শহরের জনঘনত্ব। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে।

Advertisement

প্রস্তুতি কেমন
২০১৬ সালে ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার নির্মাণে চীনের সঙ্গে চুক্তি হলেও গত এক দশকে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ সেন্টার নির্মাণে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় জায়গাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তেজগাঁওয়ে এক একর জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবন নির্মাণ করতে গেলে নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য কমপক্ষে আরও ২৫ বর্গমিটার জায়গা থাকা দরকার। সেটা পাওয়া যায়নি।

দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। বড় দুর্যোগের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার জন্য আরও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে আমরা সে সংগ্রহ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা উপকূলে আমাদের ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক আছেন। নগরে আছে ৪৮ হাজার। তাঁদের যুক্ত করে মানুষকে ভূমিকম্প নিয়ে সচেতন করার কাজ শুরু করব।’

তবে প্রস্তুতি ও করণীয় দিকগুলো যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন দুর্যোগ ফোরামের সদস্যসচিব গওহর নঈম ওয়ারা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জেলা পর্যায়ে চিঠি দিয়েছে দুর্যোগের তথ্য দেওয়ার জন্য। এ ধরনের দুর্যোগে এমনিতে তথ্য আসার কথা। সেটার জন্য চিঠি দিতে হবে কেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নরসিংদীর দুর্যোগের তথ্য আসতে লেগেছে এক দিনের বেশি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারের জায়গা নেই জানিয়ে গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, যে দেশগুলো স্থানীয় সরকারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আছে। দুর্যোগ নিয়ে সচেতনতার বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে ছাত্ররা লাফিয়ে পড়েছে। এ রকম কেন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব চর্চা করায় না। এটা স্কুল থেকে শেখাতে হবে।

Advertisement
Continue Reading

প্রধান প্রতিবেদন

আমরা কি জেনেবুঝে বিপর্যয় ডেকে আনছি

Published

on

By

অধ য পক আকত র ম হম দ

ঢাকার মাটির নিচে যে ভূতাত্ত্বিক শক্তি সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, তার সামান্যতম বিচ্যুতিতেও এই মহানগরী এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। এই কঠিন বাস্তবতায় শহরটিকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ না থাকলেও, এর ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। বিদ্যমান অবকাঠামোকে কেন্দ্র করেই আমাদের এমন উপায় বের করতে হবে, যা এই শহরকে নিরাপদ করতে পারে।

গত ৩০-৩৫ বছরে ঢাকা শহরের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে, যার একটি বড় অংশই হয়েছে নরম মাটির ওপর। বিশেষ করে, শহরের পূর্বাংশে প্রগতি সরণি থেকে বালু নদ পর্যন্ত এবং শহরের পশ্চিম অংশে শ্যামলী, বছিলার মতো এলাকাগুলো নরম মাটির স্তরের ওপর গড়ে উঠেছে। নরম মাটিতে নির্মিত অবকাঠামো ভূমিকম্পের সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ ধরনের মাটি ভূকম্পন তরঙ্গকে বিবর্ধিত করে এবং তীব্র ঝাঁকুনিতে এর ভারবহন ক্ষমতা হারাতে পারে। এই অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ শহরকে একটি গুরুতর বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অবকাঠামোগত বিশৃঙ্খলা ঢাকার ঝুঁকিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে, যার মূলে রয়েছে বিল্ডিং কোডের (ইমারত বিধিমালা) নির্দেশনাকে প্রয়োগ না করতে পারার ব্যর্থতা। শহরের প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনই কোনো না কোনোভাবে ইমারত নির্মাণ আইন ও বিল্ডিং কোড অমান্য করে তৈরি হয়েছে, যা সেগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। খুব অল্পসংখ্যক ভবন তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যাই বেশি। বিল্ডিং কোডের এই পদ্ধতিগত লঙ্ঘন মূলত এর প্রয়োগ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতার অভাবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, যা একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তাকে অপরিহার্য করে তুলেছে।

ঢাকাকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত করতে একটি দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করা অপরিহার্য। একদিকে যেমন বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনই ভবিষ্যৎ নির্মাণকাজ যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও টেকসই হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য সামনে রেখেই আমাদের কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হবে।

এর জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো শহরের প্রতিটি ভবনের ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়ন করা। মূল্যায়নের পর যেসব ভবনকে শক্তিশালী করা সম্ভব, সেগুলোকে রেট্রোফিটিং বা মজবুতকরণ করতে হবে। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলো এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করে তাদের পুরোনো ভবনগুলোকে সুরক্ষিত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভবনগুলোর ক্ষেত্রে এই মজবুতকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই; এটিই বিদ্যমান অবকাঠামোকে সম্ভাব্য ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।

Advertisement

ভবিষ্যতে ঢাকাকে নিরাপদ রাখতে নতুন নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা চলবে না। নতুন সব নির্মাণকাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় ঘটলে চলবে না। এই কাজ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি দ্রুত গঠন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রাজউক, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, যেন তারা নিজ নিজ এখতিয়ারে বিল্ডিং কোডের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারে।

সরকারি তদারকি–ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে ‘থার্ড-পার্টি মনিটরিং’ একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

দুর্যোগ–পূর্ববর্তী এই প্রস্তুতিগুলোর পাশাপাশি, দুর্যোগ–পরবর্তী উদ্ধারব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দেওয়াও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখজনক হলেও সত্য, ঢাকায় দুর্যোগকালীন উদ্ধার সক্ষমতা এতটাই দুর্বল যে একটি ছোট আকারের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যও তা যথেষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো এবং সিটি করপোরেশনের মতো সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। নিকট অতীতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা আমাদের এই দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অপ্রতুল, সেহেতু আমাদের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত এবং জীবনরক্ষাকারী কৌশল হলো একটি সুপ্রশিক্ষিত ও বিশাল স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী গড়ে তোলা। ভূমিকম্প–পরবর্তী উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য প্রচুর পরিমাণে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করতে হবে। এই অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ও তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানই হতে পারে দুর্যোগ মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর একটি উপায়।

ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে হতাশ না হয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব। বিদ্যমান ভবনগুলোর রেট্রোফিটিং, নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ এবং দুর্যোগ–পরবর্তী সময়ের জন্য একটি শক্তিশালী স্বেচ্ছাসেবকভিত্তিক উদ্ধারব্যবস্থা গড়ে তোলাই হলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ। এই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ কোনো বিকল্প নয়, বরং ঢাকার টিকে থাকার একমাত্র উপায়। এ বিষয়টি উপেক্ষা করে কি আমরা জেনেবুঝে বিপর্যয় ডেকে আনব?

Advertisement

● অধ্যাপক আকতার মাহমুদ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
আবাসন সংবাদ1 week ago

ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে

ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে...

প্রধান প্রতিবেদন1 week ago

আমরা কি জেনেবুঝে বিপর্যয় ডেকে আনছি

ঢাকার মাটির নিচে যে ভূতাত্ত্বিক শক্তি সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে, তার সামান্যতম বিচ্যুতিতেও এই মহানগরী এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। এই...

আবাসন সংবাদ1 week ago

ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিন বন্ধ ঘোষণা

ভূমিকম্প–পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের...

আবাসন সংবাদ1 week ago

ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের নেতৃত্বে আরিফুল-মোসলেহ উদ্দিন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর ১৭তম কার্যনির্বাহী পরিষদ (২০২৬–২০২৭) নির্বাচন ২০২৫ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার (২১...

অর্থ ও বাণিজ্য1 month ago

দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট জগতে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আকিব মুনির

দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত: এক দশকেরও কম সময়ে কঠোর পরিশ্রম, সততা এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে...

Advertisement

সর্বাধিক পঠিত