Connect with us

ফিচার

শীতে ঘরে আনুন উষ্ণতা! জেনে নিন উপায়গুলো

শীত চলে এসেছে। সাথে শুরু হয়ে গেছে শীতের প্রস্তুতির ছোটাছুটিও। শীতের মরসুমে ঘর গরম রাখতে অনেক মানুষ নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে। ঠান্ডায় রুম হিটার ও ব্লোয়ার দেখা যায়। রুম হিটার এবং ব্লোয়ার ব্যবহার করার ফলে কেবল উচ্চ বিদ্যুতের বিল আসে না, স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিছু সহজ পদ্ধতির সাহায্যে রুম হিটার ও ব্লোয়ার ছাড়াও ঘর গরম রাখতে পারেন।

হিমশীতল মৌসুমে বাড়িতে নিজেকে উষ্ণ এবং আরামে রাখাই সবার উদ্দেশ্য। তবে সেটা করতে যথেষ্ট প্রস্তুতির দরকার। এই প্রস্তুতির জন্য কিছু কেনাকাটা প্রয়োজন, যা হয়ে উঠতে পারে ব্যয়বহুল। যেমন, শীতকালে ঘরকে উষ্ণ রাখার অন্যতম সাধারণ উপায়গুলোর একটি হচ্ছে একটি হিটিং সিস্টেম ব্যবহার করা। কিন্তু হিটিং সিস্টেমের মতো এসব উপায় ব্যবহার করলে প্রচুর পরিমাণে বেড়ে যাতে পারে আপনার পরিষেবা বিল। কিন্তু শীতে উষ্ণ থাকতে চান, আবার পরিষেবা বিলেও অতিরিক্ত খরচ করতে চান না – তাহলে কী করবেন? চিন্তা নেই, উত্তর আছে আমাদের কাছে। পুরো বাড়িটি উষ্ণ রাখুন, কিংবা কিছু নির্দিষ্ট রুম – ঘরকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখার প্রচুর স্বল্প ব্যয়ের উপায় আছে। নিজের খরচ না বাড়িয়ে শীতকালে আরামে থাকার জন্য পড়ে নিতে পারেন পাঁচটি দুর্দান্ত টিপস:

ফয়েল পেপারের ব্যবহার
শীতকালে ঘর গরম রাখতে আপনি ফয়েল পেপার ব্যবহার করতে পারেন
শীতে ঘর উষ্ণ রাখার উপায়গুলো – র মধ্যে এটি দারুণ কার্যকরী। ফয়েল পেপার মূলত গোটানো অ্যালুমিনিয়াম শীট, যা খাবারের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। অ্যালুমিনিয়াম একটি দুর্দান্ত তাপ পরিবাহক। তাপ প্রতিফলনের ক্ষেত্রেও এটা দারুণভাবে কাজে আসে। এর মানে এই, শীতকালে ঘর গরম রাখতে আপনি ফয়েল পেপার ব্যবহার করতে পারেন। রান্নাঘরের দেয়ালে কিছু ফয়েল পেপার লাগিয়ে রাখুন। বিশেষ করে চুলার আশেপাশে। অ্যালুমিনিয়ামের প্রতিফলনের ক্ষমতার কারণে দেয়ালের মধ্যে দিয়ে তাপ চলে যেতে পারে না, বরং ঘরে প্রতিফলিত হতে বাধ্য হয়।

বিছানা উষ্ণ রাখতে গরম পানির বোতল
গরম পানির বোতল যেহেতু পানিকে গরম রাখে, আপনার বিছানাও এর তাপে উষ্ণ হয়ে উঠবে
রাতের বেলা ঠান্ডা বিছানায় ঘুমোতে কারোই ভালো লাগে না। আর শীতে ঘর উষ্ণ রাখার উপায়গুলো এর মধ্যে গরম পানির বোতল ভীষণ উপযোগী। শীতকালে বিছানা অনেকক্ষণ খালি থাকলে সেটা খুবই ঠান্ডা হয়ে যায়। কিন্তু বিছানা আরামদায়ক এবং উষ্ণ করে রাখার একটা দারুণ উপায় আছে। একটা গরম পানির বোতল ভরে কম্বলের নিচে রেখে দিন। গরম পানির বোতলগুলো সাধারণত রাবার দিয়ে বানানো হয়। এবং এই রাবারের তাপ ধরে ক্ষমতা পানিকে সহজে ঠান্ডা হয়ে যেতে দেয় না। এর মানে, গরম পানির বোতল যেহেতু পানিকে গরম রাখে, আপনার বিছানাও এর তাপে উষ্ণ হয়ে উঠবে।

বাবল র‍্যাপ ব্যবহার করুন
বাতাসের যেহেতু তাপ আটকে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা আছে, বাবল র‍্যাপও তাই ঘর উষ্ণ রাখতে দারুণভাবে কাজে আসতে পারে
শীতে ঘর উষ্ণ রাখার উপায়গুলো প্রয়োগ করতে চাইলে, বাবল র‍্যাপকে সহজ উপায় হিসেবে বেছে নিতে পারেন। শুধু প্যাকিংয়ের কাজে নয়, বাবল র‍্যাপ শীতকালে ঘর গরম রাখার কাজেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বাবল র‍্যাপ আসলে কিছুই না, শুধু প্লাস্টিকের শীটের ভেতর আটকে রাখা বাতাসের বুদবুদ। বাতাসের যেহেতু তাপ আটকে রাখার অসাধারণ ক্ষমতা আছে, বাবল র‍্যাপও তাই ঘর উষ্ণ রাখতে দারুণভাবে কাজে আসতে পারে। যেকোনো আবদ্ধ জায়গায় বাতাস তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে। কারণ, প্রতিটি বুদবুদের ভেতরে বাতাসের অণুগুলো অবাধে ঘোরাফেরা করে, যার কারণে তাপ স্থানান্তরের কাজটি জটিল হয়ে যায়। এভাবে তাপমাত্রা ধীর গতিতে বদলায়।

Advertisement

তাই তাপ রোধ করতে চাইলে আপনার জানালাগুলোয় একটি করে বাবল র‍্যাপের শিট ঝুলিয়ে রাখুন। বাবল র‍্যাপ ৫০% পর্যন্ত তাপ রোধ কমাতে পারে। এটি আপনার পরিষেবা বিলও বাঁচিয়ে দিবে।

টেরা কোটা হিটার
সারা বাসায় সেন্ট্রাল হিটিং সিস্টেম লাগানো কিংবা প্রতি রুমের জন্য আলাদা পোর্টেবল হিটার কেনা আপনাকে ঠান্ডা বাসা থেকে বাঁচাতে পারে। কিন্তু তাতে আপনার মানিব্যাগের উপর চাপ পড়তে পারে বাজেভাবে, সাথে পরিষেবা বিল তো আছেই। বিল সংক্রান্ত বিষয়ে বেশি খরচ করতে না চাইলে আপনার জন্য সমাধান হয়ে উঠতে পারে টেরা কোটা হিটার। শুধু একটি টেরা কোটা ফুলের পাত্র একটি মোমবাতির উপর উল্টো করে বসিয়ে দিন। পাত্রটিকে দুটি পাথর বা অন্য কিছুর সাহায্যে একটু উঁচুতে বসাতে হবে, যাতে মোমবাতি জ্বলার মতো বাতাস পেতে পারে। এভাবে মোমবাতিটির কারণে টেরা কোটা পাত্রটি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে এবং পাত্রটি ঘরকে উষ্ণ রাখবে।

পর্দার ব্যবহারে বুদ্ধির পরিচয়
শীতকালে কখন পর্দা খুলে রাখবেন, সেই ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে
পর্দা একটি অসাধারণ জিনিস। শুধু একটি জায়গার সৌন্দর্য বাড়ানো ছাড়াও এটি অনেক কাজে ব্যবহার করা যায়। একটি বাসায় কিংবা রুমে কতখানি আলো এবং বাতাস ঢুকবে, সেটা পর্দাই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শীতকালে কখন পর্দা খুলে রাখবেন, সেই ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে। রোদ থাকার সময়ে পর্দা খুলে রাখলে ঘরে আলো ঢুকবে, কিন্তু রাতে পর্দা বন্ধ রাখাই ভালো। ঘরে ভালোমতো আলো ঢুকতে পারলে তা সারা বাসাকেই উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে। রাতে আবার পর্দা বন্ধ করে দিলে এই উষ্ণতা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে না।

এই সবগুলোই খুব সহজ ডিআইওয়াই প্রোজেক্ট, এবং এগুলোর ব্যবস্থা করতে একটি শুক্র কিংবা শনিবারের বিকালই যথেষ্ট। শীতকালে ঘর উষ্ণ রাখতে এই টিপসগুলো সবচেয়ে সহজ, কার্যকরী এবং সস্তা উপায়ের কয়েকটি। এগুলো আপনার ঘর উষ্ণ রাখার পাশাপাশি অর্থ বাঁচাতেও সাহায্য করবে।

Advertisement
Continue Reading
Advertisement

ফিচার

প্রথম ফ্ল্যাট কিনে ঠকতে না চাইলে মেনে চলুন এই ১০ কৌশল

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

ছয় বছর আগে রাজধানীর শাহীনবাগে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্ল্যাট কিনতে স্বল্প পরিচিত এক আবাসন প্রতিষ্ঠানে বুকিং দেন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মাজহার হোসেন। তারপর প্রতি মাসে কিস্তিও পরিশোধ করতে থাকেন। তবে কয়েক মাস যেতেই তিনি লক্ষ করলেন, প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী।

মাজহার হোসেন জানালেন, এখন ফ্ল্যাট বুঝে পাইনি। কবে পাব সেটি নিশ্চিত না। ভবনের কাঠামো নির্মাণকাজ শেষ হলেও অন্যান্য কাজ বাকি। আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক কেবল আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছেন।

অধিকাংশ মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার নিজেদের স্থায়ী ঠিকানার জন্য একটা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখে। সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ফ্ল্যাট কিনতে অনেকেই সারা জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করেন। তাঁদের কেউ কেউ মাজহার হোসেনর মতো প্রথম অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে গিয়ে হয়রানির মুখে পড়েন। এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা কঠিন হয়ে পড়ে।

রাজধানীতে জমির দাম অত্যধিক। নির্মাণসামগ্রীর দামও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সে জন্য ফ্ল্যাটের দাম অনেক বছর ধরেই আকাশচুম্বী। তবে চাহিদা বেশি থাকায় এই খাতে ব্যবসায়ীর সংখ্যাও অনেক। তাদের অধিকাংশই নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান সেসবের তোয়াক্কা করছে না। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। অনেকে বুঝে, না বুঝে সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন। পরে দেখেন, প্রতিষ্ঠানের কথা আর কাজে মিল নেই। তখন বছরের পর বছর ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত ফ্ল্যাট বুঝে পান না। নিজের একটি বাড়ির স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

নিজের ফ্ল্যাটের স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন না হয়ে ওঠে, সে জন্য নানা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। আপনি যদি জীবনের প্রথম ফ্ল্যাট কেনার চিন্তাভাবনা করেন, তাহলে চুক্তি করার আগে ১০টি কৌশল জেনে নেওয়া উচিত। এগুলো বিবেচনা করে ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝামেলার মুখে পড়া থেকে আপনি রক্ষা পেতে পারেন—

Advertisement

১. সাধ আর সাধ্য
ফ্ল্যাট কেনার আগে আপনার সাধ আর সাধ্যের মধ্যকার বোঝাপড়া সম্পন্ন করতে হবে। ধরা যাক, আপনার ৮০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনার আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে আপনি সাতপাঁচ না ভেবে গৃহঋণ নিয়ে দুই কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে ফেললেন। কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে দেখলেন, দৈনন্দিন সংসার চালানো কঠিন। একপর্যায়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ। তখন ফ্ল্যাট বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। সে জন্য বাজেট অনুযায়ী ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

রাজধানী ঢাকায় কমবেশি ৬০-৭০ লাখ থেকে শুরু করে ১৫-২০ কোটি টাকার ফ্ল্যাটও আছে। গুলশান-বনানী, ধানমন্ডি, বারিধারার মতো এলাকায় অভিজাত ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ৩৬ হাজার টাকা। আবার বাড্ডা, রামপুরা, খিলগাঁও, মিরপুরসহ কিছুটা পিছিয়ে থাকা এলাকায় প্রতি বর্গফুট ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আবাসন খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাট কিনতে গেলে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করে।

অভিজাত এলাকার বাইরে অন্য সব এলাকায় স্থানীয় ছোট কোম্পানির আবাসন প্রকল্প রয়েছে। তাদের ফ্ল্যাটের দাম তুলনামূলক কম। আবার কয়েকজন মিলে জমি কিনে বাড়ি বানাতে পারলে ফ্ল্যাটের দাম কম পড়ে। পুরোনো ফ্ল্যাটের দামও কম। আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে সেটিও বিবেচনা করতে পারেন।

২. প্রয়োজন মিটবে যেখানে
অনেকেই কোথায় ফ্ল্যাট কিনবেন সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। তবে সন্তানের লেখাপড়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই ফ্ল্যাট কেনার এলাকা বাছাই করা দরকার। আপনি যেখানে ফ্ল্যাট কিনতে চান, তার আশপাশে ভালো স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আছে কি না, দেখে নিন। আবার ফ্ল্যাটটি যেখানে, সেখান থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার যোগাযোগব্যবস্থা কেমন, তা-ও বিবেচনা করতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে অফিস কিছুটা দূরে হলেও সমস্যা হয় না। তা ছাড়া ফ্ল্যাটের আশপাশের রাস্তাঘাট, বাজারসুবিধা কেমন, সেসবও বিবেচনায় রাখা দরকার।

৩. ভবনের সুযোগ-সুবিধা
আবাসন প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ এখন আর বিলাসিতা নয়, নিত্যদিনের প্রয়োজন। তাই ব্যায়ামাগার, সুইমিংপুল, কমিউনিটি স্পেস, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, গাড়ি পার্কিং, নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের সরবরাহের বিষয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নিতে হবে। তবে সবগুলো সুবিধা নিতে গেলে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

Advertisement

৪. সঠিক প্রতিষ্ঠান বাছাই
কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনছেন, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার কারণ সেই প্রতিষ্ঠান যদি নিয়মকানুন না মেনে ব্যবসা করে, তাহলে আপনি বিপদে পড়বেন। সে জন্য খোঁজ নিন, প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তরের অতীত ইতিহাস কেমন। প্রতিষ্ঠানটি আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সদস্যপদ আছে কি না, সেটিও যাচাই করুন। কারণ পরবর্তী ফ্ল্যাটসংক্রান্ত কোনো ঝামেলা হলে আপনি সংগঠনটির দ্বারস্থ হতে পারবেন। এ ধরনের জটিলতা নিরসনের রিহ্যাবের পৃথক কমিটিও রয়েছে। তারা নিয়মিতই এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি করে। তবে কেবল নিজেদের সদস্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগই আমলে নেয় রিহ্যাব। ফলে আবাসন প্রতিষ্ঠানের রিহ্যাব সদস্যপদ থাকাটাও জরুরি।

৫. অনুমোদনহীন প্রকল্পে সতর্ক
রাজধানীতে আবাসিক, বাণিজ্যিক যেকোনো ভবনের অনুমোদন দিয়ে থাকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অনুমোদন না নিয়ে ভবন করলে সেটি ভেঙে দিতে পারে রাজউক। সে জন্য আপনি যে আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছেন, সেটি রাজউক অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে।

৬. জমির খোঁজও লাগবে
আপনি যে আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট কিনতে চান, সেটি যে জমিতে নির্মাণ হবে বা হচ্ছে, সেটি নিষ্কণ্টক কি না, যাচাই করতে হবে। ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে তল্লাশি দিয়ে জমির মালিকানা ও দখলদার সম্পর্কে সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ যে জমির ওপর আবাসিক প্রকল্প হবে, সেটির দলিলপত্র যাচাই করে নেওয়া ভালো। জমি নিয়ে কোনো মামলা আছে কি না, সেটি দেখতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা থাকবে।

৭. শর্তের খুঁটিনাটি জানুন
ফ্ল্যাট কেনার আগে আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির সব শর্ত ভালো করে পড়ে দেখতে হবে। চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে ফ্ল্যাট কেনার শর্ত, ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ, ফ্ল্যাটের অনুমোদিত নকশা, ভবনের কোন ফ্ল্যাটটি কিনছেন এবং ক্রেতা যদি উন্নত মানসম্পন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করতে চান, তাহলে দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি—এ বিষয়গুলো উল্লেখ থাকতে হবে। এ ছাড়া একেক আবাসন প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাটের আয়তন একেকভাবে পরিমাপ করে। ফলে ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ও ব্যবহারযোগ্য আয়তনের বিষয়ে পরিষ্কারভাবে আগেই বুঝে নিতে হবে। সেটি চুক্তিতে রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গেও পরামর্শ করে নেওয়া যেতে পারে।

৮. কিস্তি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা
ফ্ল্যাট যদি কিস্তিতে কেনা হয়, তাহলে কত কিস্তি ও কবে হস্তান্তর হবে, সেটি চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে। কোনো কারণে ফ্ল্যাট কেনা না হলে সেটি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা–ও স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।

Advertisement

৯. কোনটি কেনা লাভজনক
রেডি বা প্রস্তুত, নির্মাণাধীন নাকি শিগগিরই নির্মাণ শুরু হবে, এমন প্রকল্পের ফ্ল্যাট কিনবেন, সেটিও চূড়ান্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, প্রস্তুত ফ্ল্যাটের দাম বেশি। নির্মাণ শুরু হবে এমন ফ্ল্যাট বুঝে পেতে সময় লাগে। সে ক্ষেত্রে নির্মাণাধীন ভবনে অ্যাপার্টমেন্ট কেনাটা আপনার জন্য বেশি সুবিধাজনক। কারণ, যত দ্রুত আপনি নিজের বাসা বা ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন, তাতে বাসাভাড়া বাবদ খরচ কমবে। সেই টাকা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধে সুবিধা হবে আপনার।

১০. ঋণ নিন বুঝেশুনে
বর্তমানে ব্যাংকগুলো একজন গ্রাহককে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ দিতে পারে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (লিজিং কোম্পানি) আগে থেকেই গ্রাহকের চাহিদামতো ঋণ দিয়ে দেয়। আবার সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) অন্যদের চেয়ে কম সুদহারে ঋণ দেয়। ফলে ঋণ নেওয়ার আগে সুদহারের পাশাপাশি শর্তগুলো ভালো করে দেখে নিন।

Continue Reading

ফিচার

যে জিনিসটি ছাড়া আধুনিক আবাসন অপরিপূর্ণ

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

র৵াংগ্‌স প্রপার্টিজের ডিজাইন ও পরিকল্পনার কাজে অনেক বছর যুক্ত থাকার পর ২০১৫ সালে একদল স্থপতি মিলে গড়ে তোলেন ইনস্পেস আর্কিটেক্টস লিমিটেড। আবাসন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদুর রহমান। তিন প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট হিমেল কুমার সাহা, ওয়াহিদ আহমেদ ও আয়েশা শফিকের সঙ্গে আছে ৬৫ জনের অভিজ্ঞ একটি দল। বুদ্ধিবৃত্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে আট বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিতই তাঁরা তৈরি করছে বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা। সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিজেদের স্থাপনায় ভার্টিক্যাল গার্ডেন, ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজ ফেকাড ও রুফটপ গার্ডেনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ইনস্পেস আর্কিটেক্ট। সবুজ এই অংশগুলো ছাড়া আধুনিক বাসস্থান অপরিপূর্ণ, মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তারা।

পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন যখন ভরসার নাম
আধুনিক স্থাপত্যে পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনকে কেন্দ্রে রেখে কাজ করার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই ধারায় কাজ করছে ইনস্পেস আর্কিটেক্টস। তাদের বিভিন্ন ভবন বা স্থাপনার নকশায় পরিবেশের পাশাপাশি অগ্রাধিকার পায় সবুজ। শুধু ফুলের টব বা ছাদবাগান নয়; ভবনের প্রতিটি স্তরে মেলে সবুজের দেখা। ইনস্পেসের ডিজাইন টেবিল থেকে আসা ডায়োরামা, মিরান্ডা, মেরিসা, রিফ্লেকশন, পার্ক টেরেস, মেমোরি ৭১, হোয়াইট ওকসহ বিভিন্ন ভবনের দিকে তাকালেই প্রশান্তি অনুভব করবেন যে কেউ। প্রাকৃতিক উপাদান ও উদ্ভিদের ব্যবহার ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশকে রাখে স্বাস্থ্যকর, বায়ুপ্রবাহকে করে অবাধ, সেই সঙ্গে কমায় শক্তির খরচ। তাই ইনস্পেস আর্কিটেক্টসের ভবন নির্মাণের একটি কেন্দ্রীয় ভাবনা হয়ে উঠেছে এখন সবুজ নকশা।

নকশায় ভবিষ্যৎ অন্দরে মিনিমালিজম
ইনস্পেস আর্কিটেক্টসের নকশা করা ডায়োরামা ভবনটি ঘুরে দেখছিলাম। গুলশানে নির্মাণ করা হয়েছে এই আবাসিক ভবন। বারান্দায় সবুজের উপস্থিতি। গুলশানের মতো ব্যস্ত এলাকায়ও বাসিন্দারা পাচ্ছেন প্রকৃতির স্পর্শ। ইনস্পেসের স্থপতি ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘সবুজ স্থাপনায় মিনিমালিস্ট ডিজাইন, স্থাপত্যশিল্পে নতুন এক বিপ্লব আনতে কাজ করছি আমরা। সারা বিশ্বেই এখন ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভবনের ডিজাইন করা হচ্ছে। একই ভাবনা নিয়ে আমরাও বাংলাদেশে কাজ করছি।’

স্থাপত্যের এক নতুন ধারা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন মিনিমালিজম। ইনস্পেস আর্কিটেক্টসের কাজেও অতিরিক্ত জটিলতা আর অপ্রয়োজনীয় সাজসজ্জার বদলে সহজ ও ব্যবহারিক ভাবনাই দেখা যায় বেশি। ভবনের ইন্টেরিয়র ডিজাইনে প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভেতরের আলোক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। প্রাকৃতিক উপাদানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে ভবনের পরিবেশগত প্রভাব যেমন ঠিক থাকছে, তেমনি ব্যবহারকারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ফেলছে ইতিবাচক প্রভাব।

‘পরিবেশের ভারসাম্যের বিষয়টি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’
স্থপতি ওয়াহিদুর রহমান
শৈশব থেকেই নকশা ও স্থাপত্যের প্রতি আমার গভীর আকর্ষণ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় আরও গভীরতর হয়েছে সেই আগ্রহ। র৵াংগ্‌স প্রপার্টিজ লিমিটেডে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, স্থাপত্য কেবল ভবন নির্মাণেরই নয়, জীবনযাপনেরও অংশ। ইনস্পেস আর্কিটেক্টসে আমরা নান্দনিকতা, পরিবেশবান্ধব নকশা, ফাংশনাল ডিটেইল ডিজাইন ও স্থায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিই।

Advertisement

প্রতিটি প্রকল্পে শুধু বসবাসের চাহিদাই মেটাই না, পাশাপাশি ভবনের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যের দিকটাও আমাদের খেয়ালে থাকে। আমরা এমন ভবন নির্মাণে বিশ্বাসী, যা দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশ ও মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমাদের নকশায় প্রাকৃতিক আলো–বাতাসের প্রবাহ এবং আধুনিক উপকরণের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে করে শক্তি খরচ হয় কম ও বাড়ে ভবনের স্থায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ, সুন্দর আর টেকসই একটি পরিবেশ তৈরি করা।

প্রতিটি স্থাপনার নকশায় আমরা ত্রিভুজ বা চতুর্ভুজের মতো সরল কিন্তু কার্যকর জ্যামিতিক বিন্যাস ব্যবহার করি, যা দৃষ্টিনন্দন ও ব্যবহারের উপযোগী। ভবনের ভেতরের স্থানগুলোকে আরও উন্মুক্ত, আরামদায়ক ও ব্যবহারবান্ধব করতে ফাংশনাল ডিজাইন করি।

সবুজ ফেকাড বা গাছপালায় আচ্ছাদিত ভবনের বাইরের অংশ পরিবেশবান্ধব নকশার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই পদ্ধতিতে শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বাতাসের গুণগত মান ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা যায়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সবুজায়ন ও ফাংশনাল ডিজাইনের ভবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যা ও পরিবেশগত চাপের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি নকশায় আমরা গ্রাহকের নিরাপত্তা ও পরিবেশের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
আবাসন সংবাদ2 weeks ago

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তাকে গৃহায়ন ও...

আবাসন সংবাদ2 weeks ago

রাসিক মেয়র থেকে ভূমি মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক...

অর্থ ও বাণিজ্য2 months ago

প্রিমিয়াম হোল্ডিং এর ৩ দিন ব্যাপী পিঠা উৎসব ও একক আবাসন মেলা

দেশের অন্যতম সেরা আবাসন কোম্পানী প্রিমিয়াম হোল্ডিং লিমিটেড প্রতি বছরের মতো এবারো বাংলা ও বাঙালীর ঐতিহ্য শীতকালকে উপলক্ষ করে ০৮-১০...

আবাসন সংবাদ2 months ago

৪ দিনব্যাপী আবাসন মেলা শুরু

রাজধানীতে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করেছে রিয়েল এস্টেট হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল শুরু হওয়া এ মেলা চলবে...

আবাসন সংবাদ3 months ago

ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে

ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে...

Advertisement

সর্বাধিক পঠিত