১৪ বছরের সংগ্রামের পর রিহ্যাবে নির্বাচন: এক অসহনীয় আন্দোলন

Share
Share

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্বাচনহীন অবস্থায় ছিল দেশের অন্যতম প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। এই দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা স্থবির হয়ে পড়ে এবং সদস্যদের একটি বড় অংশ নির্বাচনের দাবি জানাতে শুরু করেন। সেই দাবি থেকেই শুরু হয় একটি দীর্ঘ আন্দোলন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপ নেয় সংগ্রামে।

নির্বাচন ফিরিয়ে আনার এই আন্দোলনের পেছনে ছিলেন কিছু সাহসী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সদস্য। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন লায়ন এম. এ. আউয়াল (সাবেক এমপি), সৈয়দ শামীম রেজা, সাইদুল ইসলাম বাদল, মোঃ আনোয়ারুজ্জামান টুটুল, মিঞা সেলিম রাজা পিন্টু, তৌহিদা সুলতানা, মোঃ কামরুল ইসলাম, ইঞ্জি. মোঃ আল আমিন, হাজী দেলোয়ার হোসেন, কমোডর মোঃ মোস্তফা শহীদ, মুহাম্মদ শামীম, ইঞ্জি. মোঃ আনসার আলী, ইঞ্জি. শামসুজ্জোহা চৌধুরী, ইঞ্জি. এন. এম. নূর কুতুবুল আলম, মোঃ জয়নাল আবেদিন, মিরাজ মোক্তাদির, ইঞ্জি. সৈয়দ মোঃ জোনায়েদ আনোয়ার এবং মোঃ মাহবুবুর রহমান।

নির্বাচন ফিরিয়ে আনার দাবিতে তারা সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। তবে এই পথ সহজ ছিল না। নির্বাচন দাবির আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সদস্যকে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়। কেউ বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন, কেউ প্রশাসনিক হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন, আবার কারও বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এমনকি অনেককে অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা যায়। তবুও এসব বাধা-বিপত্তি তাদের আন্দোলনের পথ থামাতে পারেনি।

ক্রমে এই আন্দোলন শুধু সংগঠনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিষয়টি দেশের গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হতে থাকে। রিহ্যাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার দাবি তখন একটি বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়।

দীর্ঘদিনের এই চাপ, আন্দোলন ও আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছরের স্থবিরতার অবসান ঘটে এবং রিহ্যাবে আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হয়। ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিরবাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সাংগঠনিক কার্যক্রম নয়; এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। সেই সংগ্রামের পেছনে যেসব সদস্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাদের অবদান রিহ্যাবের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এদিকে এই তালিকার বাইরে আরও অনেক সদস্য নির্বাচন ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে চলতি বছরের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের অবদানও কম নয়; তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে এখানে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

Share

Don't Miss

রিহ্যাব নির্বাচনে ‘প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ’ থেকে লড়ছেন এম. ফখরুল ইসলাম

রিহ্যাব নির্বাচন ২০২৬-২৮ এর পরিচালক পদে ‘প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ’ থেকে লড়ছেন এম. ফখরুল ইসলাম। আবাসন খাতের উন্নয়নে ৬৬ নম্বর ব্যালটে ভোট ও...

রিহ্যাব নির্বাচন : প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্যানেল ও ইশতেহার ঘোষণা

রিহ্যাব নির্বাচনে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের ২৯ সদস্যের পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা ও ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড...

Related Articles

আবাসনে নতুন ঠিকানা ‘মাহিম’স ফ্লোরিডা’

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যে নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।...

অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএম ফাঁদ, শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় কৃষি পর্যটন বা ‘অ্যাগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পের নামে আন্তর্জাতিক মানের...

আবাসন খাত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে...

স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে রিহ্যাব ও এভারকেয়ার হাসপাতালের মধ্যে সমঝোতা

আবাসন খাতের উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা আরও...

<