উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো শীর্ষ আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। রিহ্যাব এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে “প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ” থেকে প্রেসিডেন্ট পদে ড. আলী আফজাল ও সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে আবদুর রাজ্জাক ২১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পরে কিছুটা বিলম্বে ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে। পরে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিট থেকে ভোট গণনা শুরু হয়।
ভোট গণনা শেষে রাত ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। রিহ্যাব এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ২৯টি পদে আরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সংগঠনটির সহ-সভাপতি-১ পদে মোহাম্মদ আকতার বিশ্বাস ২৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সভাপতি-২ রয়েছেন আবু খালিদ মো. বরকতুল্লাহ ২৫৫ ভোট এবং সহ-সভাপতি-৩ এ.এফ.এম. উবাইদুল্লাহ ২৩৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন।
অর্থ বিষয়ক সহ-সভাপতি পদে ড. মো. হারুন অর রশিদ ২৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান সর্বোচ্চ ৩১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক পদে সর্বোচ্চ ৩৩৮ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন মো. লাবিব বিল্লাহ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান থেকে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন উম্মে জাহান আরজু ও হাবিবুর রহমান হাবিব উভয়েই পেয়েছেন ৩০৪ ভোট।
এছাড়া নির্বাচিত অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন-এ.জেড.এম. কামরুদ্দিন, ক্যাপ্টেন মো. শাহ আলম, মো. খাজা নাজিবুল্লাহ, শাক কামাল, মো. এমদাদুল হুসাইন সোহেল, ড. এন. জোহা, আলহাজ প্রফেসর মো. ফারুক আহমদ, তাসনোভা মাহবুব সালাম, মো. জহির আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তফা কামাল, মো. এমদাদুল হক, মো. মাহবুবুর রহমান, এম ফখরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল ফরহাদ ফিলিপ, সুরাজ সারদার এবং আলহাজ গোলাম কিবরিয়া মজুমদার।
নির্বাচন বোর্ডে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবুল কায়ুম তালুকদার মনি ও হাজী মো. শরিফুল ইসলাম। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মো. জাহিরুল হক ভূইয়া।
আবাসন খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে রিহ্যাবের এ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে খাতটির নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও বাজার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৬৭৪ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৬১৩ জন ভোটারের মধ্যে ৫১২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের ৬১ ভোটারের মধ্যে ৫৮ জন ভোট দেন। সব মিলিয়ে ভোটের হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৫ শতাংশ।
দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচন ঘিরে আবাসন খাতে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। ২৯টি পদের বিপরীতে ৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে তিনটি প্যানেলের মধ্যে মূল প্রতিযোগিতা হচ্ছে—আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ, প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ এবং জাগরণ প্যানেল। এর পাশাপাশি কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের পর দীর্ঘ সময় সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হলেও ২০২৪ সালে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হচ্ছে।
