আবাসন সংবাদস্পটলাইট

নেভানোর চেয়ে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোই কার্যকর পদক্ষেপ

Share
Share

দেশ ও মানুষের কল্যাণে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকা—এটাই যাদের কাজ, সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। সপ্তাহে সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে প্রতিষ্ঠানটির কন্ট্রোল রুম। আর সেখানে সব সময় দায়িত্বে থাকেন প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা। যখন গভীর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে যায় দেশবাসী কিংবা সাপ্তাহিক বা বছরের বড় কোনো উৎসবে মেতে থাকে দেশবাসী, ঠিক তখনও কন্ট্রোল রুমের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে থাকেন বাহিনীটির সদস্যরা।

কখন, কোথায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যায় আর তার তথ্য কন্ট্রোল রুমে আসা মাত্রই সব সময় প্রস্তুত থাকা বাহিনীর ফায়ার ফাইটার টিমকে দেওয়া হয় সে তথ্য। আর সঙ্গে সঙ্গে সাইরেন বাজিয়ে দুর্ঘটনার স্থানে ছুটে যান ফায়ার ফাইটাররা। শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, নানা ধরনের দুর্ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতাতেও সব সময় দায়িত্ব পালন করে থাকে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম কেবল কন্ট্রোল রুমে সীমাবদ্ধ নয়।

তারা সরেজমিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা পরিদর্শন করে, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকে। এছাড়া মহড়ার কাজও চলমান থাকে।আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এসব পরিদর্শনে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা সরেজমিনে দেখে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোথাও কোথাও কিছু ঘাটতিও লক্ষ্য করা গেছে, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ঈদকে ঘিরে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। একই সময়ে ঈদের ছুটিতে অনেকেই বাড়িঘর ফাঁকা রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তাই জনসমাগমপূর্ণ মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফাঁকা বাড়িতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বাংলানিউজের সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর তা নেভানোর চেয়ে আগুন লাগার ঝুঁকিগুলো কমিয়ে আনা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এজন্য বাসাবাড়ি, মার্কেট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন মেনে চলাই অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের সর্বোত্তম উপায়।

বাংলানিউজ: ঢাকার বড় বড় মার্কেটগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে কী ধরনের অগ্নি ঝুঁকি বা নিরাপত্তা ঘাটতি পাওয়া গেছে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল: ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বড় মার্কেট, শপিংমল ও বাণিজ্যিক ভবনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সম্প্রতি নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব পরিদর্শনে বেশ কিছু সাধারণ অগ্নি ঝুঁকি ও নিরাপত্তা ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।

প্রধানত যেসব সমস্যা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো—

• অনেক মার্কেটে ফায়ার এক্সিট (জরুরি নির্গমন পথ) পর্যাপ্ত নেই, অথবা মালামাল রেখে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
• অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র (Fire Extinguisher) থাকলেও অনেকেই তার ব্যবহার জানেন না, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা অকার্যকর বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়া গেছে।
• ফায়ার অ্যালার্ম ও স্মোক ডিটেকশন সিস্টেম অনেক স্থানে স্থাপন করা হয়নি।
• বৈদ্যুতিক তারের জটলা, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ ও অতিরিক্ত লোড অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
• অনেক মার্কেটে গ্যাস সিলিন্ডার অবৈধভাবে সংরক্ষণ বা ব্যবহার করা হচ্ছে।
• কিছু স্থানে ফায়ার ড্রিল ও অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের অভাব দেখা গেছে।

(ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারাদেশে শপিংমল ও মার্কেটে মোট ৬১৭টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে; যা মোট আগুনের ৩ শতাংশ। এই আগুনে ১৮ কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ টাকার ক্ষতি হয়। আর ফায়ার সার্ভিস এই মার্কেটগুলোর অগ্নিনির্বাপণ করে ৪৫৯ কোটি ৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ টাকার সম্পদ রক্ষা করে)

বাংলানিউজ: মার্কেটগুলোর অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বাধ্যতামূলকভাবে কী কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে ফায়ার সার্ভিস মনে করে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দৃষ্টিতে প্রতিটি মার্কেট ও শপিংমলে নিম্নলিখিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে থাকা দরকার—

ক. ফায়ার সার্ভিস থেকে প্রতিটি মার্কেটের জন্য ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করা ও তার শর্ত প্রতিপালন করার মাধ্যমে কার্যকারিতা সনদ গ্রহণ করা।
খ. নতুন মার্কেট নির্মাণের ক্ষেত্রে বিএনবিসি অনুসরণ করা।
গ. কার্যকর ফায়ার ডিটেকশন ও অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা।
ঘ. পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সিট ও এক্সিট সাইনেজ সংরক্ষণ করা।
ঙ. ফায়ার হাইড্রেন্ট ও স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার সিস্টেম রাখা।
চ. প্রতিটি ফ্লোরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং তা পরিচালনার প্রশিক্ষিত নিজস্ব জনবল সংরক্ষণ করা।
ছ. পরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও নিয়মিত ইলেকট্রিক্যাল অডিট।
জ. ফায়ার সেফটি প্ল্যান ও জরুরি বহির্গমন পরিকল্পনা (Evacuation Plan) সংরক্ষণ করা।
ঝ. মার্কেট কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত ফায়ার ড্রিল ও প্রশিক্ষণ অনুশীলন করা।

এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে মার্কেটগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যেমন ২০২৫ সালে দেশে মোট ২৭,০৫৯টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৫টি। এর মধ্যে ৩৪.৭ ভাগ অগ্নিকাণ্ডের কারণ ছিল বৈদ্যুতিক ত্রুটি, যা বাণিজ্যিক স্থানগুলোর জন্যও বড় ঝুঁকি।

বাংলানিউজ: ঈদকে সামনে রেখে মার্কেটগুলোর বাড়তি ভিড়ের কারণে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস কী ধরনের বিশেষ নির্দেশনা বা প্রস্তুতি নিয়েছে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল: ঈদ ও অন্যান্য উৎসবের সময় শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা চাহিদার আলোকে অতিরিক্ত মালামাল মার্কেটগুলোতে সংরক্ষণ করেন। ক্রেতা-সাধারণের ভিড় বৃদ্ধি পায়। এসব কারণে সেখানে অগ্নি ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এ কারণে ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে—

• বছরব্যাপী মার্কেটগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন ও মহড়া করার মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান থাকে। যেমন ২০২৫ সালে শপিংমল ও মার্কেটে ২০৩৪টি এবং বাণিজ্যিক ভবনে ১৮০৯টি অগ্নিনির্বাপণ মহড়া করা হয়। এর পাশাপাশি এ বছর ঈদকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে বিশেষ পরিদর্শন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি ঈদ পর্যন্ত চলমান থাকবে।

• ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় আমাদের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টরগণ তাদের নিজ নিজ এলাকার মার্কেটগুলো পরিদর্শন শুরু করেছেন।
• গতকাল ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশের ৮ বিভাগে ২২৩টি মার্কেট পরিদর্শন করা হয়েছে।
• পরিদর্শনকালে মার্কেট কর্তৃপক্ষকে ফায়ার ড্রিল ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
• অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা থাকায় মোট ১৯২টি মার্কেটকে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্য মার্কেটকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
• পরিদর্শনের পাশাপাশি মার্কেটগুলোর জন্য আমাদের নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনগুলোকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার (Quick Response) জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য মার্কেট কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাসাধারণসহ সবার সচেতনতা জরুরি বলে মনে করি।

বাংলানিউজ: ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ করে ঈদে ঢাকা ছাড়ছে বহু মানুষ, বাসায় বাসায় সিলিন্ডার ও গ্যাস লাইন। এসব খালি বাসায় অগ্নি ঝুঁকি কতটুকু? ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে কী কী পরামর্শ রয়েছে?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল: ঈদের সময় অনেক মানুষ বাসা তালাবদ্ধ রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। বাসায় গ্যাস লাইন, সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক সংযোগ থাকায় এসব স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।

২০২৫ সালের অগ্নিকাণ্ডের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রান্নার চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০ দশমিক ৭৫ ভাগ), গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে ৯২০টি (৩ দশমিক ৪০ শতাংশ), গ্যাস সরবরাহ লাইনের লিকেজ থেকে ৫৬২টি (২.০৮%) এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ১২১টি (০.৪৫ শতাংশ) অগ্নিদুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

এসব কারণে সকলকে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তা হলো—
• বাসা ছাড়ার আগে গ্যাসের চুলা ও রেগুলেটর বন্ধ করতে হবে।
• গ্যাস লাইনের মূল ভালভ বা রাইজার বন্ধ রাখতে পারলে তা হবে আরও নিরাপদ।
• অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে।
• সিলিন্ডার নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।
• প্রতিবেশী বা নিরাপত্তা প্রহরীকে বাসার বিষয়ে অবহিত রাখতে হবে।
• রান্নাঘরে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে গ্যাসের লিক থেকে পুরো রুম গ্যাস চেম্বারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে এবং সেখান থেকে বিস্ফোরণ ঘটার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে।
• বাসায় বিশেষ করে বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম রাখা প্রয়োজন। স্বয়ংক্রিয় ধোঁয়া শনাক্তকারী (স্মোক ডিটেক্টর) ব্যবস্থা রাখা গেলে তা শুরুতেই দুর্ঘটনার সংবাদ দিতে পারে।

বাংলানিউজ: অগ্নিঝুঁকি এড়াতে বাসায় বাসায় বা কলকারখানায় মানুষের জন্য ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পরামর্শ কী?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল: উপরে বলা কথাগুলোই আসলে আমাদের পরামর্শ। এগুলো সংক্ষেপে বলতে গেলে ভবন ও কলকারখানার অগ্নি নিরাপত্তায় নিচের ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন—

১. নতুন ভবন নির্মাণের সময় বিএনবিসি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে হবে।
২. ফায়ার সার্ভিস থেকে ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে এবং তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে কার্যকারিতা সনদ গ্রহণ করতে হবে।
৩. বিদ্যমান ভবনের ক্ষেত্রেও ফায়ার সার্ভিস থেকে ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করে তার শর্ত প্রতিপালন করার মাধ্যমে কার্যকারিতা সনদ গ্রহণ করতে হবে।

ওপরের এই তিনটি ব্যবস্থার মধ্যে অগ্নি নিরাপত্তার সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। কারণ এসব ব্যবস্থায় ভিন্ন ভিন্ন ভবনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থাপনা রয়েছে।

মূলত, আমরা আপনাদের মাধ্যমে সকল নাগরিককে অনুরোধ করব, সবাই যেন অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকেন। কারণ একটু অসাবধানতা ও সামান্য সচেতনতার অভাব অনেক বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আমরা যেমন আমাদের বাসায় বা কারখানায় চুরি-ডাকাতি সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য চিন্তা করি—রুম তালা দেওয়া হলো কি না, বাসার মেইন গেট তালা দেওয়া হলো কি না, সিকিউরিটি গার্ড থাকল কি না ইত্যাদি; একইভাবে ফায়ার সেফটির বিষয় নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে—আমার ভবন ও কারখানা সুরক্ষিত কি না, ডিটেকশন প্রোটেকশন ব্যবস্থা আছে কি না, বাসা বা কারখানা খালি রেখে গেলে দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিসকে অ্যালার্ট করার ব্যবস্থা থাকল কি না, প্রাথমিকভাবে নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করার মতো ব্যবস্থা থাকল কি না ইত্যাদি। এসব চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে আমাদের করণীয় বের হয়ে আসবে বলে আমি মনে করি। পরিশেষে বলব, ভবনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমেই কেবল দুর্ঘটনার ঝুঁকি, দুর্ঘটনার সংখ্যা এবং সংঘটিত দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

স্বপ্নধরার ‘প্লট ফার্মিং’ পেল ম্যাড স্টারস-এর গ্র্যান্ড প্রিক্স

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতে নতুন ইতিহাস গড়লো স্বপ্নধরা আবাসন প্রকল্প। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ম্যাড স্টারস অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫ এ স্বপ্নধরার উদ্ভাবনী উদ্যোগ...

রাজউকের নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদনের বাইরে জমি বিক্রির প্রচারণায় আশিয়ান সিটি

রাজউকের নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদনের বাইরে জমি বিক্রির প্রচারণায় আশিয়ান সিটি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মাত্র ৩৩ একরের অনুমোদন পেলেও প্রকল্প এলাকায় এখনো চলছে...

Related Articles

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত ‘যমুনা’

জাতীয় নির্বাচনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’...

আবাসন খাত রক্ষায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল চায় রিহ্যাব

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলা এবং নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ৩ হাজার...

গৃহায়নমন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব ও পরিকল্পনাবিদদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আবাসন খাতের সংগঠন...

সংকট সমাধানে নতুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর সঙ্গে রিহ্যাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

দেশের আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত...

<