কেনাকাটার আভিজাত্য এখন আর সীমিত নেই গুলশান-বনানী এলাকায়

Share
Share

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মার্কেটে যখন উপচে পড়া ভিড়, তখন গুলশান-বনানী এলাকার বিপণিবিতানগুলোর কেনাকাটা চলছিল অনেকটা ঢিলেঢালা ভাবে। এক সময়কার বিত্তবানদের পছন্দের কেনাকাটার এই এলাকাটি জৌলুস হারিয়েছে কিছুকাল আগেই। বিশেষ করে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, উত্তরার মাসকট প্লাজার মতো বেশ কিছু অভিজাত বিপণিবিতান গড়ে উঠেছে ঢাকার বিভিন্ন এলকায়। এছাড়াও এফ-কমার্সভিত্তিক কিছু উদ্যোক্তা বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা বিদেশ থেকে আনা দামী পণ্য লাইভে এসে বা ঘরোয়া পরিবেশে বিক্রি করায় অনেককেই এখন আর মার্কেটে আসতে হচ্ছে না।

ফলে বিত্তবান ক্রেতার একচেটিয়া বাজার হিসেবে গুলশান-বনানী এলাকার শোরুম বা বিপণিবিতানগুলোর আগের সেই জৌলুস চোখে পড়ে না।
এসব এলাকার বিক্রেতারা বলছেন, বিত্তবান ক্রেতাদের পছন্দের সব পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, মূলত আমদানি করা বিভিন্ন কসমেটিক্স আইটেম, পারফিউম ও দামী গহনার জন্য গাড়ি হাঁকিয়ে ক্রেতারা ছুটে আসতেন এসব মার্কেটে। মূলত নারী ক্রেতাদের লক্ষ্য করেই দামী ব্র্যান্ডের দেশি-বিদেশি পণ্যের ‌’এক্সক্লুসিভ কালেকশন’ রাখা হয় এসব এলাকার শোরুমগুলোয়।

তবে আগের মতো চাহিদা না থাকায় রোজার ঈদের সময়ও খুব একটা জমে ওঠেনি গুলশান-বনানীর বিপণিবিতানগুলোর বিকিকিনি।

তবে পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মল বা যমুনা ফিউচার পার্কসহ অন্যান্য বড় মার্কেটের মতো অতটা ভিড় না থাকলেও গুলশান ও বনানী এলাকার এসব বিপণিবিতানে নিয়মিত ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখা যায়।

গত কয়েক দিন এই এলাকাগুলোর বিপণিবিতান ঘুরে, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

গুলশান-১ ও গুলশান-২ এলাকার বিপণিবিতানগুলোয় বিকেল থেকে রাত যত ঘনিয়ে আসে, ক্রেতাদের আনাগোনাও ততই বাড়তে থাকে। তবে নিউ মার্কেটের মতো বা উত্তরার মতো উপচে পড়া ভিড় এখানে নেই।

অনেক ক্রেতাই বলছেন, তুলনামূলক কম ভিড়ের কারণে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন।
গুলশানের পরিচিত বিপণিবিতানগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশ প্লাজা কনকর্ড, গুলশান পিংক সিটি বিপণিবিতান এবং নাভানা টাওয়ার। এসব জায়গায় পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্যের বিলাসবহুল শোরুম রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় পোশাকের পরিচিত কিছু ব্র্যান্ডের শোরুম রয়েছে। গুলশান শোরুমেও ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক দেখতে আসছেন অনেক ক্রেতা।

বনানী এলাকার বাসিন্দা তানিয়া রহমান ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন পুলিশ প্লাজা কনকর্ডে। তিনি বলেন, যমুনা ফিউচার পার্কের মতো এখানে অত ভিড় নেই। তাই আরাম করে দোকান ঘুরে দেখা যায়। মেয়ের জন্য একটি পোশাক আর নিজের জন্য একটি শাড়ি কিনেছি।

আরেক ক্রেতা সাইফুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি গুলশান পিংক সিটি বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে আসেন। তিনি বলেন, অফিসের পর এখানে আসা সহজ। ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় সময় নিয়ে পোশাক বাছাই করা যায়। ঈদের জন্য একটি পাঞ্জাবি কিনছি।

পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের একটি পোশাকের দোকানের বিক্রয়কর্মী রেজাউল করিম জানান, আমাদের এখানে বেশির ভাগ পোশাক থাইল্যান্ড ও চীন থেকে আনা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারতের নকশার পোশাকও রয়েছে। নতুন ধাঁচের এসব পোশাকের প্রতি তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ বেশি।

গুলশান পিংক সিটি বিপণিবিতানের আরেক দোকানি মাহবুব আলম বলেন, অনেক ক্রেতা বিশেষ করে পাকিস্তানি ও ভারতীয় থ্রি পিস খুঁজতে আসেন। এছাড়া থাইল্যান্ড ও চীনের তৈরি পোশাকেরও ভালো চাহিদা আছে। ভিড় অন্য বড় মার্কেটের মতো না হলেও বিক্রি মোটামুটি হচ্ছে।

বনানী এলাকার শোরুমের কেনাকাটা
মঙ্গলবার বনানী এলাকার একটি শোরুম থেকে ছবিটি তোলা। ছবি জি এম মুজিবুর
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের শেষ সপ্তাহে সাধারণত কেনাকাটা আরও বাড়ে। তাই ঈদের আগে শেষ কয়েক দিনে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তুলনামূলক কম ভিড় এবং বিদেশি নকশার পোশাকের বৈচিত্র্যের কারণে গুলশানের এসব বিপণিবিতানগুলো এখনও ক্রেতা ধরে রেখেছে। তবে অভিজাত ক্রেতাদের কেনাকাটার গন্ডি দেশ পেরিয়ে বিদেশে চলে গেছে অনেক আগেই। তাছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে শুরু করে উত্তরা পর্যন্ত বিশ্বমানের শপিং মল ও দামী ব্রান্ডের শোরুম গড়ে ওঠায় গুলশান-বনানীর বিপণিবিতানগুলোকে টিকে থাকার সংগ্রামের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

Share

Don't Miss

আবাসন খাতের উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ

দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আবাসন ব্যবসায় মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ অতি দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। রিহ্যাব সদস্যদের স্বার্থ...

১৪ বছরের সংগ্রামের পর রিহ্যাবে নির্বাচন: এক অসহনীয় আন্দোলন

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্বাচনহীন অবস্থায় ছিল দেশের অন্যতম প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। এই দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা স্থবির হয়ে...

Related Articles

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত: সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মোট দেশজ...

আবাসনে নতুন ঠিকানা ‘মাহিম’স ফ্লোরিডা’

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যে নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।...

অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএম ফাঁদ, শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় কৃষি পর্যটন বা ‘অ্যাগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পের নামে আন্তর্জাতিক মানের...

আবাসন খাত উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

দেশের আবাসন খাতের উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সাধারণ মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে...

<