নিম্ন আয়ের জন্য প্রকল্প, সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা—রাজউক নিয়ে বিতর্ক

Share
Share

রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনের লক্ষ্য দেখিয়ে একের পর এক প্রকল্প হাতে নিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তবে কাগজে-কলমে ‘সাশ্রয়ী আবাসন’ হিসেবে উপস্থাপন করা এসব প্রকল্পের বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে উচ্চবিত্তদের জন্য বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগে।

উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে ৯৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প এর সাম্প্রতিক উদাহরণ। এখানে মাত্র ৫৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়—যেমন সেমিনার, উৎসব ভাতা, যানবাহন ক্রয়, পরামর্শ সেবা ও প্রচার খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ—নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই প্রকল্পে প্রতিটি ফ্ল্যাট নির্মাণে গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি। অথচ এটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পটির প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা—তা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

এর আগে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে বাস্তবায়িত প্রকল্পেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ১৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন প্রভাবশালী ও বিত্তশালী ব্যক্তিরা। পরবর্তীতে অনেকেই সেগুলো বিক্রি করেছেন ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকায়।

নতুন প্রকল্পটি উত্তরা আবাসিক মডেল টাউন (৩য় পর্ব)-এর আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়তলা ছয়টি ভবনে ৫৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ৬০০ বর্গফুটের ৩০৮টি এবং ৪০০ বর্গফুটের ২৮৪টি ইউনিট থাকবে। পাশাপাশি একটি ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন ও ছয়তলা মসজিদ নির্মাণের কথাও রয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক, খেলার মাঠ, পাম্প হাউস, সাবস্টেশন ও নিরাপত্তা গেট নির্মাণ করা হবে। তবে ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভূমি উন্নয়ন ও পার্ক নির্মাণে ১৬১ কোটি টাকার বেশি, অনাবাসিক ভবনে ২৫৬ কোটি টাকা এবং বৈদ্যুতিক কাজে ৫৭ কোটির বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি জমিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়ন ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকলে এর সুফল প্রকৃত লক্ষ্যগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছায় না।

এ বিষয়ে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. গোলাম রাব্বী বলেন, “উত্তরায় নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং এটি নিম্নবিত্তদের জন্যই বাস্তবায়ন করা হবে। সব ব্যয় নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।”

তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আবাসন সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—
গরিবের জন্য নেওয়া এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থ রক্ষা করছে?

Share

Don't Miss

আবাসন খাতের উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ

দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আবাসন ব্যবসায় মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ অতি দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। রিহ্যাব সদস্যদের স্বার্থ...

১৪ বছরের সংগ্রামের পর রিহ্যাবে নির্বাচন: এক অসহনীয় আন্দোলন

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্বাচনহীন অবস্থায় ছিল দেশের অন্যতম প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। এই দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা স্থবির হয়ে...

Related Articles

দেশের অর্ধেক মানুষের নিরাপদ আবাসন নেই

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে প্রতিবছর বিশ্বে বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন...

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত: সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মোট দেশজ...

আবাসনে নতুন ঠিকানা ‘মাহিম’স ফ্লোরিডা’

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যে নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।...

অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএম ফাঁদ, শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় কৃষি পর্যটন বা ‘অ্যাগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পের নামে আন্তর্জাতিক মানের...

<