স্মার্ট হোম
কেন বাসা বাড়ির লক সিস্টেম ডিজিটালের দিকে যাচ্ছে?
বাসার নিরাপত্তার জন্য তিন ধরনের তালার ব্যবস্থা আছে। একটি হলো সনাতনী ছিটকিনি আর টিপ তালা। এফ আহমেদ আর্কিটেক্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রধান স্থপতি এইচ এম ফাহিম ফয়সাল আহমেদ জানান, ডিজিটালের এই যুগেও ছিটকিনির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আস্থা সবচেয়ে বেশি। কেননা এটা ভেতর থেকে লক করা থাকে। বাইরে থেকে খোলা কঠিন। আগামী এক দশকে লক সিস্টেম যত আধুনিকই হোক না কেন, বাংলাদেশের বাসাবাড়িতে ভেতর থেকে ছিটকিনির ব্যবস্থাটা থেকেই যাবে, মনে করেন এই স্থপতি।
এ ছাড়া এখন বাজারে যে ধরনের টিপ তালা, লিভার লক (দুই পাশ থেকেই লক করা যায়) বা ডাবল–ত্রিপল লকের হ্যান্ডেল লক (দুবার বা তিনবার ঘুরে দুই বা তিনটা লক হয়) আছে, এগুলোই সাধারণত ব্যবহার করা হয় বেশি। তবে এই তালাগুলোর একটা বড় অসুবিধা হলো, চাবি থেকে সহজেই চাবি বানানো যায়। চাবির মাপজোখ স্ক্যান করে মেকারে কাটিং করে হুবহু চাবি বের করে ফেলা যায়।
তবে এর ভেতর কিছু তালা আছে, যেগুলো কপি করে নকল করা কঠিন। কিন্তু বিক্রেতারা সব সময়ই ‘এই তালার এই চারটা চাবিই পৃথিবীতে আছে। এগুলো কোনোভাবেই কপি করা সম্ভব নয়’ বলে বিক্রি করেন। ঢাকার কারওয়ান বাজারে তালার বাজার ঘুরেও এ রকম কথাই শোনা গেল। তবে এই লক সিস্টেমের সঙ্গে মূল ফটকে একটা মাস্টারলকও থাকে। গোল যে তালাটা আমরা সবাই চিনি। বর্তমানে গোল লক আর হ্যান্ডেল লক মিলেই মূল দরজা তথা বাসার নিরাপত্তাব্যবস্থার দেখভাল করছে।
লক সিস্টেমের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক, ফেস লক, নাম্বার লক প্রভৃতি। এই লকগুলো বাংলাদেশের বাজারে আছে। তবে এখনো খুব বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি। কেন? স্থপতি ফাহিম ফয়সাল বলেন, ‘একেবারে কেউ কিনছেন না, তা নয়। খুচরা ক্রেতারা কেনেন। প্রযুক্তি নিয়ে এখনো আমাদের ভেতর একধরনের ভীতি কাজ করে। যদি ফিঙ্গার লক বা ফেস লক কাজ না করে, তখন কী হবে? আবার নষ্ট হয়ে গেলে কোথায় যাবেন, কীভাবে ঠিক করাবেন, সেটাও একটা চিন্তার বিষয়। তবে তরুণদের প্রযুক্তিতে আগ্রহ আছে। তাঁরা যখন ভবিষ্যতে বাড়ির মালিক হবেন, তখন সেখানে এই ধরনের লক সিস্টেম বেশি থাকবে বলে মনে করি।’
কোন তালার কেমন দাম
গতানুগতিক লক: ছিটকিনি আর টিপ তালা। দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু।
আধুনিক লক: লিভার লক, হ্যান্ডেল লক, গোল লক। দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজারে কেনা যাবে।
ডিজিটাল বা স্মার্ট লক সিস্টেম: ফিঙ্গারপ্রিন্টের লক, ফেস লক, নাম্বার লক। দাম সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু।
বাংলাদেশের বাজারে যেসব তালা পাওয়া যায়, সেগুলো জিংক, পিতল, অ্যালুমিনিয়াম বা মিশ্র মেটাল। এগুলো সাধারণত চীনে তৈরি। অনেক সময় কোরিয়া বা ভারত হয়ে ইমপোর্টেড হয় তালা। টিপ তালাগুলোর দাম ২০০ টাকা থেকে শুরু হলেও একটু ভালো মানের কিনতে চাইলে হাজার টাকার মধ্যেই মিলবে।
অন্যদিকে স্মার্ট লুকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস লক বা নাম্বার লকের দাম সাড়ে তিন হাজার থেকে শুরু। তরুণ স্থপতি কৌশিক কুমার মজুমদার জানান, দেশে ক্রমে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ফিঙ্গার লক সিস্টেম। আগামী ১০ বছরের মধ্যে শহরের অনেক বাসাবাড়ির লক সিস্টেম ডিজিটালে চলে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডিজিটাল লক সিস্টেমের ঝুঁকি খুবই কম। নাম্বার লকে আছে চার ডিজিটের পিন কোড, ফলে হাজারের বেশি কম্বিনেশনে আপনি লক করতে পারেন। ভালো মানের একটা স্মার্ট লক সিস্টেম লাগাতে আপনার খরচ হবে হাজার দশেক টাকা। এসব স্মার্ট লক সিস্টেম ব্লুটুথ, ওয়াই–ফাই বা জেড ওয়েভের মাধ্যমে বাড়ির ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে। ফলে যেকোনো জায়গা থেকেই আপনি দরজা খুলতে বা লাগাতে পারবেন।
নির্বাচিত প্রতিবেদন
আধুনিক রান্নাঘর সাজানোর ১০ উপায়
সৌন্দর্য বরাবরই মানুষের নান্দনিক আনন্দের ধারক হিসেবে পরিচিত হয়ে এসেছে। কারণ সকলেই ছিম-ছাম গোছানো জিনিস পছন্দ করে। আবার এই সৌন্দর্যের সাথে রুচিবোধের মিশেলের মাধ্যমে মানুষ সৌখিন হয়ে উঠে।
যদিও সৌখিন বলতে আমরা ব্যাক্তির পরিপাটি থাকা এবং তার বাহ্যিক অবস্থাকে বোঝাই। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে একজন সৈখিন ব্যক্তি নিজের পাশাপাশি তার আশপাশের পরিবেশ ও বাসস্থানকেও নান্দনিকভাবে সাজাতে পছন্দ করে।
বাসস্থান সাজানোর ক্ষেত্রে প্রায় সকলের আগ্রহ থাকে শোবার ঘর, খাবার ঘর কিংবা বসার ঘরের প্রতি। কিন্তু বাসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রান্নাঘরের প্রতি মানুষের তেমন খেয়াল থাকেনা বললেই চলে।
বলা বাহুল্য যে, একটি গৃহের মধ্যে অন্যান্য রুমের চাইতে রান্নাঘর কোন অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়। রান্নাঘরকে বাড়ির যতটা অবহেলিত জায়গা মনে করা হয়, বিষয়টি একদমই তা নয় বরং সাজানোর বা ডেকোরেশনের জন্য সবার আগে সকলের রান্নাঘরের কথাই বিবেচনা করা উচিত।
যেহেতু আমাদের বাড়ির গৃহিণীরা দিনের অধিকাংশ সময় রান্নাঘরে কাটিয়ে দেয়, এই বিবেচনাবোধ থেকে হলেও আমাদের উচিত রান্নাঘরকে তাদের জন্য আরামদায়ক ও সুন্দরভাবে ভাবে সজ্জিত করা দেয়া।
আধুনিক রান্নাঘর সাজানোর ১০ টি উপায়
বর্তমান সময়ে রান্নাঘর ডেকোরেশন করা নিয়ে অনেকে তৎপর হলেও, বেশিরভার মানুষই ভাবেন যে রান্নাঘর সাজাতে অনেক বড় অংকের টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু, বাস্তবিকতা হলো, খুব সাশ্রয়ী বাজেটের মধ্যে আধুনিক ডিজাইনের রান্নাঘর সাজানো সম্ভব যা আপনার রান্নাঘরকে দুর্দান্ত সুন্দর করে তুলবে।
রান্নাঘরের লে আউট
রান্নাঘরের পরিবেশ মূলত জায়গার উপর নির্ভর করে। ছোট রান্নাঘরের জন্য প্যারালাল শেইপ বেশ মানানসই। তবে রান্নাঘর যদি বড় হয়, তাহলে তা ইংরেজি ইউ (U) অথবা এল (L) শেইপে রাখলে ভাল হবে। এতে হাটাচলার যথেস্ট স্পেস পাওয়া যাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্য অনুসারে কাজও করা যাবে।
লে আউট প্ল্যানিংয়ের সময় রান্নাঘরে বড় একটি জানালার থাকা অবশ্যক , কেননা বাংলাদেশ একটি গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। রান্নাঘরে যেহেতু আগুনের সাহায্যেই রান্নাবান্না করা হয় তাই এই রুমে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবে এই স্বাভাবিক। আর এই তাপ বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বড় জানালা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে রান্নাঘরের স্থান স্বল্পতা কারণে বড় জানালা ব্যবহার করা না গেলে, ছোট একটি ফ্যান এবং সাথে একটি এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি রান্নাঘরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও সাবলীল হতে হবে।
রান্নাঘরের চিমনি
তেল মশলা মিশ্রিত রান্নার ধরনের কারনে আমাদের রান্নাঘরের দেয়ালে ও সিলিংয়ে তেল চিটচিটে ভাব বেশি থাকে। আবার এই কারনে রান্নাঘরে ধোঁয়া ও গন্ধ-দুটিই বেশি হয়।
তাই মসলার গন্ধ হোক বা তেল চিটচিটে ভাব-দুটি কমাতেই স্মার্ট রান্নাঘরে রাখা চাই কিচেন হুড বা চিমনি। আধুনিক সময়ে রান্নাঘরের জন্য তৈরি করা হচ্ছে নানা নকশার স্টাইলিশ চিমনি।
এমন চিমনিতে তাই রান্নাঘরের সৌন্দর্যও বাড়ে। সঙ্গে রান্নাঘরে তৈরি হয় স্বস্তিকর পরিবেশ। বৈদ্যুতিক চিমনি বাজারে এখন বেশ জনপ্রিয়। এ ধরনের চিমনি ধোঁয়া ও তাপ টেনে নেয়। আধুনিক এই চিমনিতে থাকে এয়ার পিউরিফায়ার ও ফ্যান। বিদ্যুৎ বিলও আসে কম। মাঝারি আকারের চিমনি রান্নাঘরের কাউন্টার ছাদেও সহজে বসানো যায়।
রান্নাঘরের ক্যাবিনেট
বাংলাদেশে কিচেন ক্যাবিনেটের ব্যবহার করাটা এখনো বেশ নতুন একটা কনসেপ্ট। আজ থেকে ৫/৭ বছর আগেও মানুষজন বাড়ি তৈরির সময় রান্নাঘরে “তাক” এর ব্যবস্থা করত এবং সেই তাকের উপরই রান্নার সক তৈজসপত্র রাখত।
কিন্তু বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের মানুষের রুচিবোধের ব্যপক পরিবর্তন হয়েছে এবং এই পরিবর্তনের ধারার সাথেই ক্যাবিনেটের মাধ্যমে রান্নাঘরের তাক প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। রান্নাঘরে ক্যাবিনেটের মধ্যে সহজেই প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা যায় এবং আলাদা করে কিচেন র্যাক ব্যবহারের দরকার পড়েনা বলে অনেকখানি জায়গা সাশ্রয় হয়।
আপনি চাইলে আপনার বাসার জন্য কাস্টমাইজড ক্যাবিনেট তৈরী করে নিতে পারেন, যেখানে আপনার চাহিদা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য আলাদা সেকশন থাকবে। এছাড়া, হাতিলে রয়েছে মডিউল্যার কিচেন যেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ অনুসারে যেকোন কিচেন ক্যাবিনেট স্টাইল সিলেক্ট করতে পারেন।
রান্নাঘরের দেয়াল
রান্নাঘরের দেয়াল হওয়া উচিত উজ্জ্বল রঙের। তাই উপরের সিলিং এবং পাশের দেয়ালে এমন রঙ ব্যবহার করা উচিত যা আলোর প্রতিফলন ঘটায়। ডেকোরেশনের ক্ষেত্রে কালার স্কিমের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তাই আপনি চাইলে তিনটি রঙের সমন্বয়ে একটি প্যালেট ব্যবহার করতে পারেন।
আবার রান্নাঘরের যদি দেয়াল ফাকা থাকে তবে সেখানে বিভিন্ন শোপিস প্লেট কিংবা কাচের ঢাকনি ব্যবহার করে কিচেন ওয়ালটিকে সাজিয়ে তুলতে পারেন। এতে করে আপনার সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এবং আপনার রান্নাঘর অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি সুসজ্জিত বলে মনে হবে।
রান্নাঘরের মেঝে
রান্নাঘরের জন্য আইডিয়াল ফ্লোরিং ম্যাটেরিয়াল হলো সিরামিকের টাইলস। কারণ এতে দাগ লাগলে খুব সহজেই পরিষ্কার করা যায়। এমনকি মেঝেটি দেখতেও খুব চকচকে লাগে। যারা সিরামিকের টাইলস ব্যবহার করতে পারবে না তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু ডিজাইনের ফ্লোর কভার পাওয়া যাচ্ছে এটিও বেশ চমৎকার কাজে আসে। আপনি যদি মেঝেতে চীনামাটির বাসন অর্থাৎ পোর্সেলিন স্টোনের কার্পেট ব্যবহার করেন তবে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকগুণ কম সময় লাগবে।
রান্নাঘরের লাইটিং
সাধারণত একটি ফ্ল্যাটের মাঝামাঝির দিকেই রান্নাঘর অবস্থিত হয়ে থাকে। তাই আশে পাশে খোলা মেলা না থাকার কারণে এই ঘরে আলোর ব্যবহার কম থাকে। আলোর উৎস হিসেবে অনেকে এক বা একাধিক লাইট ব্যবহার করে থাকেন। তবে, অনেক ক্ষেত্রেই তা অপ্রতুল হিসেবে পরিগনিত হয়।
তাই রান্নাঘর সাজানো পরিকল্পনায় সঠিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। এছাড়াও কেবিনেট এর নিচে অথবা সিলিং এর অংশের লাইটিং করে সাজাতে পারেন। বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ডিজাইনের ঝাড়বাতি বা পেন্ডেন্ট লাইট পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো ও ব্যবহার করতে পারেন। আলোকসজ্জা আপনার রান্নাঘরে আধুনিকতার ছোঁয়া এনে দেবে।
রান্নাঘরের ফার্নিচার
রান্নাঘরে আসবাবপত্র হওয়া উচিত প্রয়োজনমাফিক এবং যুক্তিসংগত, অর্থাৎ যা না হলেই নয় এ ধরনের আসবাব দিয়ে রান্নাঘর সাজানো উচিত, অতিরিক্ত আসবাবপত্রের কারণে রান্নাঘরকে অগোছালো দেখাতে পারে। অনেক জায়গা ও এতে নষ্ট হয় ফলে চলাচলের অসুবিধা সৃষ্টি হয়।
আসবাবপত্র রান্নাঘরে যত কম হবে, রান্নাঘরটি তত খোলামেলা থাকবে। চাইলে আপনার রান্না ঘরে সাদা রংয়ের আসবাবপত্র ব্যবহার করতে পারেন সাদা হল একটি ভিজ্যুয়াল স্পেস এক্সপেন্ডার যা আপনার রান্নাঘরকে আরও উজ্জ্বল এবং আরও শৌখিন করে তুলবে।
রান্নাঘরের স্টোরেজ
শুকনো ইনস্ট্যান্ট খাবার বা স্নাক্স রাখার জন্য আলাদা ড্রয়ার তৈরি করতে পারেন। বিস্কুট, নুডুলস, চিপস বা যে কোন স্নাক্স প্রায়শই অগোছালো অবস্থায় থাকে। আবার অনেক সময় খুঁজে পেতে সমস্যা হয়, তাই স্টোরেজের জন্য আলাদা জায়গা থাকলে জিনিসগুলো গোছানো থাকবে এবং সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যাবে।
রান্নাঘরের সাজসজ্জা
রান্নাঘরের সাজসজ্জায় পার্সোনাল টাচের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা আছে। যেমন রান্নাঘরে পেইন্টিং, বিভিন্ন ইনডোর প্ল্যান্ট, ইত্যাদি লাগাতে পারেন। আবার চাইলে রান্নাঘরে কফি মগ এবং শোপিস সাজিয়ে রাখার জন্য খোলা তাক ব্যবহার করতে পারেন।
অবশ্য অনেকের ধারণা মতে, খোলা তাকগুলোতে জিনিসপত্র রাখলে সেগুলো সহজেই এলোমেলো ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। কিন্তু আপনি যদি সুন্দর পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখতে পারেন, এটি হতে পারে আপনার রান্নাঘরের অন্যতম আকর্ষণ।
রান্নাঘরের কাজের স্থান
আমাদের দেশের হোমমেকাররা প্রায় সারাদিনই রান্নাঘরে অতিবাহিত করেন। পুরো রান্নাঘর ঘুরে ঘুরে কাজ করতে তারা একদিকে যেমন দিন শেষে ক্লান্তিও অনুভব করেন। আবার অন্যদিকে পরিষ্কার করার ঝামেলাও এতে বেড়ে যায়।
এই ঝামেলা থেকে মুক্তির জন্য আপনার রান্নাঘরে একটি নির্দিষ্ট অংশ রাখতে পারেন যেখানে রান্না ঘরের যাবতীয় কাজ যেমন সবজি, মাছ কাটা বা বাছার কাজ করা যাবে। চেস্টা করবেন এই জায়গাটা যেন কিচেন সিংকের পাশে হয় তাহলে সহজেই ধোয়ার কাজও করতে পারবেন। এই কাজের স্থান রান্নাঘরের একটা কোনার দিকে রাখার চেস্টা করুন, তা না হলে কাজ করার সময় ময়লা পুরো রান্নাঘরেই ছড়িয়ে যেতে পারে।
আপনার রান্নাঘরের ডিজাইন পরিকল্পনা করার সময় এই সামগ্রিক বিষয়গুলো মাথায় রেখে তারপর ডিজাইনিং করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। খেয়াল রাখবেন, রান্নাঘর ছোট হোক কিংবা বড়, সব কিছু সাজানো গুছানো রাখলে পুরো রান্নাঘর জুড়ে সব কিছুর মধ্যেই সৌন্দর্যের আবির্ভাব ঘটানো সম্ভব।
পরিপাটি, ছিমছাম এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এর সুব্যবস্থা আছে এমন একটি রান্নাঘর দেখতে ও ভীষণ নান্দনিক লাগে। তাই দেরি না করে সাশ্রয়ী বাজেটে নতুন করে সাজিয়ে তুলুন আপনার বাড়ির রান্নাঘরটা। নিজের সৌখিনতা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটান সৌন্দর্যের বিকাশের মাধ্যমে।
লেখক: কাজি মোহাম্মদ আরাফাত রহমান
নির্বাচিত প্রতিবেদন
অল্প টাকাতেই করুন ঘরের দেওয়ালসজ্জা
কারও বাড়িতে ঢুকে প্রথমেই নজরে আসে দেওয়ালের সাজগোজ। দেওয়ালের রং, সাজের উপর নির্ভর করে ঘরের শোভা। নামি-দামি সংস্থার আসবাবপত্র, কার্পেট, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম, ঝারবাতি-সবই ফিকে হয়ে যায় দেওয়ালসজ্জা ঠিক না হলে।
ঘরকে নজরকাড়া করতে হলে দেওয়ালের রং বাছাই থেকে দেওয়াল সাজানোর প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে খুব মন দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। ঘরের সাজে বৈচিত্র আনতে হলে দেওয়ালের সাজসজ্জায় পরিবর্তন করতে হবে সবার আগে।
প্রতিটি ঘরের দেওয়ালের সাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখাও জরুরি। কী ভাবে দেওয়ালে কারসাজি করে ঘরের ভোল বদলে দিতে পারেন, রইল কিছু টিপস।
১. জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমবন্দি করে সাজিয়ে তুলতে পারেন ঘর। শোয়ার ঘর হোক কিংবা বসার ঘরের কোনের দেওয়ালটি-পছন্দের বেশ কিছু ছবি ফ্রেম করিয়ে ঝুলিয়ে দিন দেওয়ালে। তবে মনে রাখবেন, ফ্রেমগুলোর মাপ যেন একে অপরের থেকে আলাদা হয়।
২. আয়না হল এমনই এক ঘর সাজানোর উপকরণ, যা দিয়ে খুব সহজেই ঘরের রূপ বদলে ফেলা যায়। সেকেলে ডিজাইন থেকে আধুনিক কায়দা-পছন্দ মাফিক কিনে নিতে পারেন নানা রকমের আয়না। শোভা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেওয়ালসজ্জায় আয়না ব্যবহার করলে ছোট ঘরও বড় দেখায়।
৩. ওয়াল পেপার দিয়ে দেওয়াল সাজানোর চল নতুন নয়। তবে এখন বাজারে ওয়াল পেপার পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের। দেওয়ালের আকৃতি এবং ঘরের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াল পেপার বাছাই করে ফেলতে পারেন। বসার ঘরে একটি দেওয়াল বেছে নিয়ে সেঁটে দিতে পারেন ওয়াল পেপার, ঘরের সাজে বদল আনতে এই একটা টোটকাই যথেষ্ট।
৪. বাজারে এখন অনেক ধরনের ওয়াল স্টিকার পাওয়া যায়। দেওয়ালসজ্জার জন্য সেরকম স্টিকারও কিনে ফেলতে পারেন। তবে সেই সব স্টিকার পরে তুলতে গিয়ে দেওয়ালের ক্ষতি হবে কি না আগে থেকে তা যাচাই করে নিন।
৫. দেওয়াল জুড়ে ছোট-বড়-মাঝারি মাপের তাক করিয়ে নিতে পারেন। সেই সব তাকে বাড়ির খুদের হাতের তৈরি কোনও ছবির ফ্রেম রাখতে পারেন। পছন্দের শোপিস, মোমদানি কিংবা গাছও রাখতে পারেন।
-
বিবিধ2 years agoবাংলাদেশে প্রচলিত বাড়ি ভাড়ার চুক্তি, নিয়ম ও নীতিমালা
-
নির্বাচিত প্রতিবেদন2 years agoরিয়েল এস্টেট ব্যবসা করবেন যেভাবে
-
আবাসন সংবাদ6 months agoরাজউকের নির্দেশে নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি বন্ধ
-
আইন-কানুন6 months agoদলিলে লেখা এসব শব্দের অর্থ জেনে রাখুন, নাহলে পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়
-
আইন-কানুন2 years agoরিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের সাথে জমি বা ফ্ল্যাট নিয়ে সমস্যা ও তার প্রতিকার (১ম পর্ব)
-
বিবিধ2 years agoফ্ল্যাট বা অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র নমুনা
-
আবাসন ক্যারিয়ার2 years agoসিরামিক ইঞ্জিনিয়ার হতে চান, তাহলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো
-
আবাসন সংবাদ6 months agoসীমান্ত রিয়েল এস্টেট এর অনুমোদনহীন সীমান্ত সিটি ও সীমান্ত কান্ট্রি প্রকল্প
