দেশের জিডিপিতে রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতের সম্মিলিত অবদান প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিগত ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (রিহ্যাব) উদ্যোগে পরিচালিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রিয়েল এস্টেট খাতের অবদান’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে রিহ্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে খাত সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাবের রিসার্চ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক ড. মো. হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, মিরাজ মুক্তাদির ও মোহাম্মদ লাবিব বিল্লাহসহ অন্যরা।
এছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক দল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আমির আহমেদ গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
গবেষণায় বলা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে রিয়েল এস্টেট কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির আবাসন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই খাতের সম্প্রসারণ ঘটছে।
বক্তারা বলেন, রিয়েল এস্টেট খাত শুধু সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষভাবেও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। নির্মাণসামগ্রী, পরিবহন, শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন খাত এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে খাতটির সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হারুন অর রশিদ উল্লেখ করেন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং নকশা ও অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা রিয়েল এস্টেট খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি, সহজ ঋণপ্রাপ্তি এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করা গেলে এই খাত আরও গতিশীল হয়ে উঠবে।
সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে রিয়েল এস্টেট খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
