Connect with us

আবাসন সংবাদ

চাহিদা কমায় মন্দা ইস্পাত ও সিমেন্ট খাতে

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ায় সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের উন্নয়নকাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে রড-সিমেন্টের বিক্রি কমেছে।

ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস
গত দুবছর ধরে মন্থর চাহিদা ছিল দেশের ইস্পাত ও সিমেন্ট শিল্পে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্তিমিত হয়ে পড়ায় এখন আরও খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে এ খাত।

শিল্পসূত্রে জানা গেছে, গত দুমাসে কোম্পানিভেদে রডের বিক্রি ৫০–৭০ শতাংশ এবং সিমেন্টের বিক্রি ৩৫–৪০ শতাংশ কমেছে।

সূত্র জানায়, চাহিদা কমে যাওয়ায় গত দুমাসে হালকা স্টিলের রডের দাম টনপ্রতি ছয় থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।

এর ফলে কারখানায় পণ্য মজুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নতুন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। শিল্প মালিকেরা জানিয়েছেন, কাজ না থাকা সত্ত্বেও তারা শ্রমিকদের বেতন প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

Advertisement

শিল্প নেতারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পুনরায় শুরু না হলে ইস্পাত এবং সিমেন্ট খাত দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

চাহিদা ও বিক্রিতে বড় পতন
চট্টগ্রাম-ভিত্তিক এইচএম স্টিল সাধারণত স্বাভাবিক অবস্থায় দৈনিক ৬০০–৭০০ টন এমএস রড উৎপাদন করে। তবে চাহিদা ও বিক্রি কমে যাওয়ায় সম্প্রতি এটির উৎপাদন নেমে এসেছে ২৫০–৩০০ টনে।

এইচএম স্টিলের পরিচালক সারওয়ার আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা উৎপাদন খরচের তুলনায় দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম দামে রড বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে ক্ষতি কমাতে কারখানাটি ৫০–৬০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস করেছে।

তিনি আরও জানান, তাদের আরেকটি কারখানা গোল্ডেন স্টিলও দৈনিক উৎপাদন কমিয়ে ১৫০–২০০ টনে নামিয়ে এনেছে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল ৪০০–৫০০ টন।

বাজারের শীর্ষ উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ মন্দা থেকে বাদ পড়ছে না। দেশের অন্যতম প্রধান রড উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম-ও বাজারের সাম্প্রতিক পতনে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

Advertisement

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, সরকার পরিবর্তনের পর বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ স্তিমিত হয়ে পড়েছে। নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারদের অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ায় সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের উন্নয়নকাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে রড-সিমেন্টের বিক্রি কমেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বিএসআরএমের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে এবং নতুন কোনো প্রকল্প শুরু হয়নি।

‘ফলে গত দুমাসে ইস্পাতের বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। এ সময়ে ইস্পাতের চাহিদা ও বিক্রি ৫০ শতাংশ কমে গেছে। লোকসান কমাতে আমাদের উৎপাদন কমিয়ে আনতে হয়েছে,’ তিনি বলেন।

উৎপাদন বন্ধ-কাটছাঁট
চাহিদা ও বিক্রি কমে ক্রমাগত লোকসান হওয়ায় চট্টগ্রামভিত্তিক আরেকটি ইস্পাত প্রস্তুতকারক কেআর স্টিল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

Advertisement

কেআর গ্রুপের চেয়ারম্যান সেকান্দার হোসেন টিবিএসকে জানান, ‘রডের বাজারমূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে কমে যাওয়ায় আমরা ২২ আগস্ট কারখানার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, কেআর স্টিলের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণত ২৫০ থেকে ২৭০ টন।

ঘোড়াশালে অবস্থিত এমএস রড কারখানাসহ পিএইচপি গ্রুপের একাধিক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে বলে জানান গ্রুপটির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক কারখানার মালিক ক্ষতি কমাতে তিন শিফটের পরিবর্তে দুই শিফটে কারখানা পরিচালনা করছেন এবং সপ্তাহে একদিনের বদলে দু’দিন কারখানা বন্ধ রাখছেন।

রড প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে ৭৫-গ্রেড (অটোমেটিক) এমএস রড কারখানা পর্যায়ে প্রতি টন ৮৬–৮৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুমাস আগে ৯২–৯৪ হাজার টাকা ছিল।

Advertisement

একইভাবে, ৬০-গ্রেড (সেমি-অটো) রডের দাম দুই মাস আগের প্রতি টন ৮৬–৮৮ হাজার টাকা থেকে এখন প্রতি টন ৭৮–৮১ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

কেএসআরএম গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান জানান, প্রতি টন রডে বর্তমানে তারা ২৪ হাজার টাকা লোকসান করছেন। এক টন রড উৎপাদনে তাদের খরচ এক লাখ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ১২ হাজার টাকা, অথচ তারা এটি বিক্রি করছেন মাত্র ৮৬ হাজার টাকায়।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) অনুসারে, দেশে প্রায় ২০০টি ইস্পাত কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪০টি বড় কোম্পানি। এ খাতের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১.১০ কোটি টন রড, যেখানে দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এ খাতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা।

কাঁচামালের দাম উর্ধ্বমুখী
এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উদ্যোক্তারা লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন।

তাহের গ্রুপের পরিচালক দিদারুল আলম জানান, চাহিদা কমে যাওয়ায় গত দুমাসে দেশীয় বাজারে স্ক্র্যাপের দাম ৫৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

Advertisement

তবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে গত তিনদিনে স্ক্র্যাপের দাম তিন হাজার টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে বলে তিনি জানান।

একইভাবে, বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেলেটের দাম ৭৮ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকায় নেমে এখন প্রতি টন ৭২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাপে সিমেন্ট খাত
দেশে সিমেন্ট উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি প্রিমিয়ার সিমেন্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু এবং কর্ণফুলী টানেলসহ সব বড় মেগা প্রকল্পের জন্য সিমেন্ট সরবরাহ করেছে।

তবে, কোম্পানির সিমেন্ট বিক্রি গত প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) আগের প্রান্তিকের (মার্চ–জুন) তুলনায় ২৫–৩৫ শতাংশ কমেছে।

প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক টিবিএসকে জানান, মূলত দুটি কারণে বিক্রি কমেছে। প্রথমত, বেশ কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্প থমকে গেছে। দ্বিতীয়ত, সিটি কর্পোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বশূন্যতার কারণে নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

Advertisement

এর ফলে সিমেন্ট ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। তিনি অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো দ্রুত পুনরায় শুরু করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে প্রতি বস্তা সিমেন্ট ৪৬৫ থেকে ৪৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের পাইকারি সিমেন্ট ব্যবসায়ী এবং মেসার্স আইজা এন্টারপ্রাইজের মালিক এস এম আরিফুজ্জামান জানান, সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১০–১৫ হাজার বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হয়। তবে গত দুমাসে বিক্রি এতটাই কমেছে যে এখন প্রতিদিন গড়ে মাত্র ২৫০–৩০০ বস্তা বিক্রি হচ্ছে।

আরেকটি বড় উৎপাদক রয়্যাল সিমেন্ট সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ৫০–৬০ হাজার বস্তা সিমেন্ট বিক্রি করত। কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আবুল মনসুর জানান, গত দুমাসে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানার প্রতিদিন ৯৬ হাজার বস্তা সিমেন্ট উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড় উৎপাদন ছিল ৫০–৭০ হাজার বস্তা। তবে, চাহিদার অভাবে আমাদের উৎপাদন কমিয়ে ২০–৩০ হাজার বস্তা করতে হয়েছে।’

Advertisement

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশে ৪০টি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি একই গ্রুপের অধীনে পরিচালিত। দেশের বার্ষিক প্রায় চার কোটি টন চাহিদার বিপরীতে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় সাত কোটি আট লাখ কোটি টন।

Continue Reading
Advertisement

আবাসন সংবাদ

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তাকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জাকারিয়া তাহের। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে কুমিল্লা শহর ও নির্বাচনি এলাকা বরুড়ায় আনন্দের বন্যা বইছে।

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে উপ-নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

জাকারিয়া তাহের বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত একেএম আবু তাহের একই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের (সুমন)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পন্ন করা জাকারিয়া তাহের ১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭টি। কুমিল্লা-৮ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন; যা প্রদত্ত ভোটের ৫৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

Advertisement

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৫৬০ টাকার।

Continue Reading

আবাসন সংবাদ

রাসিক মেয়র থেকে ভূমি মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে রাজশাহীর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন মিজানুর রহমান মিনুসহ ২৫ জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট।

মঙ্গলবার বিকেলে পিআইডির আয়োজনে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয় শপথ অনুষ্ঠান। শপথের পরপরই আনন্দে ফেটে পড়েন সাধারণ জনতা। দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর রাজশাহী থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়া গেছে। এটি রাজশাহীর জন্য বেশ আনন্দের। আমরা চাই, তার মাধ্যমে রাজশাহীতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করবেন।’

Advertisement

মন্ত্রী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তো বটেই, রাজশাহীর জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমি এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করতে পারব।’

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মিনু ঘোষণা দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদাররা যে দলেরই হোক, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে রাজশাহীকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আবারও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যা করার প্রয়োজন, সেটাই করা হবে।’

মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র নির্বাচিত হয়ে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান মিনু। ২০০১ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিলেন। রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে মিনুর অভিভাবকত্ব প্রায় আড়াই দশকের। যুবদল নেতা থাকাকালে মেয়র এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘ সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালনের পর সবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ পান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে (তৎকালীন রাজশাহী-১ আসন) এমরান আলী সরকার জয়ী হন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ও আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

Advertisement
Continue Reading
Advertisement
Advertisement
আবাসন সংবাদ2 weeks ago

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তাকে গৃহায়ন ও...

আবাসন সংবাদ2 weeks ago

রাসিক মেয়র থেকে ভূমি মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক...

অর্থ ও বাণিজ্য2 months ago

প্রিমিয়াম হোল্ডিং এর ৩ দিন ব্যাপী পিঠা উৎসব ও একক আবাসন মেলা

দেশের অন্যতম সেরা আবাসন কোম্পানী প্রিমিয়াম হোল্ডিং লিমিটেড প্রতি বছরের মতো এবারো বাংলা ও বাঙালীর ঐতিহ্য শীতকালকে উপলক্ষ করে ০৮-১০...

আবাসন সংবাদ2 months ago

৪ দিনব্যাপী আবাসন মেলা শুরু

রাজধানীতে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করেছে রিয়েল এস্টেট হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল শুরু হওয়া এ মেলা চলবে...

আবাসন সংবাদ3 months ago

ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে

ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে...

Advertisement

সর্বাধিক পঠিত