আবার ড্যাপ সংশোধন চান রিহ্যাব নেতারা

Share
Share

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের নেতারা আবারও রাজধানীর নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার (ড্যাপ) সংশোধন চান। তাঁরা বলছেন, ঢাকায় জমির সংকট প্রকট হচ্ছে। ফ্ল্যাটের দাম বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে উঁচু ভবন নির্মাণের সুযোগ দিতে হবে। এর জন্য ড্যাপ সংশোধন করে ফার (ফ্লোর এরিয়া রেশিও) বাড়ানো দরকার।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রিহ্যাব নেতারা। রিহ্যাব প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি আলী আফজাল। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এ সভায় রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাক, সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল ও তানভিরুল হক প্রবাল, বিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এফ আর খান, রূপায়ণ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রিহ্যাব বিষয়টি জানিয়েছে।

মতবিনিময় সভায় ফার (ফ্লোর এরিয়া রেশিও) বৃদ্ধি, সেটব্যাক–সংক্রান্ত বিধান পুনর্বিবেচনা, উচ্চ ভবন নির্মাণের সুযোগ সম্প্রসারণ, এসটিপি (সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের বাস্তবতা, প্লটের আকার ও অবস্থান অনুযায়ী নীতিমালা নমনীয় করা, নির্মাণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আবাসন উন্নয়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়ে কথা বলেন আবাসন ব্যবসায়ীরা।

রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল বলেন, বর্তমান ড্যাপের কিছু বিধান বাস্তব প্রয়োগে আবাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। ফলে একদিকে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, সেবা সহজীকরণ ও হয়রানি কমাতে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আবাসন খাতে শেয়ারভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত, আবাসন ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের চাপে ঢাকার কিছু এলাকায় আগের চেয়ে বেশি আয়তনের ভবন এবং বেশি সংখ্যক ফ্ল্যাট নির্মাণের সুযোগ করে দিতে গত ডিসেম্বরে ড্যাপ সংশোধন করে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার।

২০২২ সালের আগস্টে ড্যাপ কার্যকর হওয়ার পর থেকে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কয়েকটি সংশোধনী আনে সরকার। তাতেও সন্তুষ্ট হননি ব্যবসায়ী ও জমির মালিকেরা।

Share

Don't Miss

আবাসন খাতের উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ

দীর্ঘদিন ধরে আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আবাসন ব্যবসায় মোহাম্মদ আলিম উল্লাহ অতি দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। রিহ্যাব সদস্যদের স্বার্থ...

১৪ বছরের সংগ্রামের পর রিহ্যাবে নির্বাচন: এক অসহনীয় আন্দোলন

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্বাচনহীন অবস্থায় ছিল দেশের অন্যতম প্রভাবশালী আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব। এই দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা স্থবির হয়ে...

Related Articles

দেশের অর্ধেক মানুষের নিরাপদ আবাসন নেই

জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে প্রতিবছর বিশ্বে বিপুলসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন...

বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত: সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাত অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মোট দেশজ...

আবাসনে নতুন ঠিকানা ‘মাহিম’স ফ্লোরিডা’

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যে নিরাপদ ও আধুনিক আবাসনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।...

অ্যাগ্রো ট্যুরিজমের আড়ালে এমএলএম ফাঁদ, শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় কৃষি পর্যটন বা ‘অ্যাগ্রো ট্যুরিজম’ প্রকল্পের নামে আন্তর্জাতিক মানের...

<