আবাসন সংবাদ
প্রবাসীদের দেশে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ এনেছে ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী বসবাস করছেন। বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন তারা। এসব প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকেই আগ্রহী নিজ দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগে। বিভিন্ন সময় সঠিক প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগ না করে প্রতারিত হয়েছেন অনেকেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য কোন মাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান না থাকায় আগ্রহ থাকা সত্বেও দেশে বিনিয়োগ করতে সাহসী হয়ে উঠতে পারছেন না এসব প্রবাসীরা।
এ ধরণের আগ্রহী অনাবাসী বাংলাদেশীদের জন্য স্বদেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স এলএলসি। টেক্সাসের হিউস্টন ভিত্তিক বাংলাদেশী মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির সাগর চাইনিজ রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিশ্চিন্তে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদ্বয়। সাংবাদিকদের ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্সের কার্যক্রম সম্পর্কে বর্ণনা ও প্রশ্নোত্তর প্রদান করেন ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান নিউইয়র্কের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব রায়হান জামান এবং হিউস্টন থেকে আগত ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক।
রায়হান জামান বলেন, এখন থেকে আমেরিকার গ্রহণযোগ্য ক্রেডিট দিয়েই বাংলাদেশে ফ্ল্যাট বা জমি কেনা যাবে ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্সের মাধ্যমে। কোন কোন কাগজ লাগবে তা তিনি বর্ণনা করেন। এ পদ্ধতিতে গ্রাহকের রেডিমেইড ফ্ল্যাটের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থাও ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স করবে। তারা বাংলাদেশের স্বনামধন্য কয়েকটি ব্যাংকের সাথে এ নিয়ে কাজ করছে এবং চুক্তি সম্পাদিত করেছে। রায়হান জামান বলেন, বাড়ি, গাড়ি বা অন্য কোন কিছু ক্রয়ের ক্ষেত্রে যে ধরণের ক্রেডিট কোয়ালিফিকেশন যাচাই করা হয় বাংলাদেশে ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরণের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়ে থাকে। তিনি ক্রেডিট স্কোরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট ব্যুরো বিশেষ করে এক্সপোরিয়ান, ট্রান্স ইউনিয়ন এবং ইক্যু ফ্যাক্স রিপোর্ট অনুযায়ী আগ্রহী গ্রাহকদের ক্রেডিট বিষয়ক তথ্য প্রদান করা হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন ও ট্যাক্সের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি প্রদান করতে হবে বলে জানান রায়হান জামান। এক প্রশ্নের উত্তরে রায়হান জামান বলেন, ম্যানেজিওলজি বর্তমানে বাংলাদেশে শতাধিক ভবনের তত্ত্ববধান করছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।
দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ার আজাদুল হক বলেন, ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স বাংলাদেশে আর্থিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের অনাবাসী বাংলাদেশীদের ক্রেডিট প্রোফাইল ব্যবহার করে বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে বাড়ি বা ফø্যাট ক্রয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করছে। বাংলাদেশের অন্যতম রিয়েল এস্টেট কোম্পানী রূপায়ন সহ আরো কয়েকটি কোম্পানীর সাথে তাদের এ সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। আজাদুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এধরণের উদ্যোগ এটাই প্রথম। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট কোয়ালিফিকেশন দিয়ে অনাবাসী বাংলাদেশীরা সহজে এবং নির্বিঘ্নে স্বপ্নের ফ্ল্যাট বা জমিতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
আজাদুল হক জানান যে প্রবাসীরা কিভাবে আইনসম্মতভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ জন্য তিনি পাঁচটি বৈধ উপায় ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান কি উপায়ে বিনিয়োগ করলে সেই বিনিয়োগের মূনাফাসহ মূল অর্থ বৈধভাবে ফিরিয়ে আনা যায়। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স মানে বিনিয়োগ নয়। অনেকে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ফ্ল্যাট কিনে বা তৈরি করে পরে তা বিক্রি করে অর্থ ফেরত আনতে চান। কিন্তু তা আইনসিদ্ধ নয়। যদি কারো লক্ষ্য হয় যে সে তার বিনিয়োগকৃত মূলধন মুনাফাসহ ফিরিয়ে আনবেন, তাহলে তা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে করা যাবে না।
কিভাবে করা যাবে তা ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স গ্রাহকদের বুঝিয়ে বলবে। ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্সের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিপুলভাবে বিনিয়োগ করতে উদ্বুুদ্ধ করা, তাদের জন্য সহজভাবে বেশ কয়েকটি পদ্ধতির প্রচলন করা। গ্রাহক সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি কি করতে চান। ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স রুপায়ন গ্রুপ, ফোট্রেস ডেভেলপমেন্টস লিমিটেড (এফ ডি এল) এবং বায়োবিল্ডের সাথে চুক্তি করেছে। এদের একেক জনের একেক রকমের ফ্লাট আছে যা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পছন্দ করতে পারবেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রুপায়ন সিটি উত্তরার মনোরম স্কাই ভিলাসমুহ।
এ ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের পর বাংলাদেশের নির্দিষ্ট ব্যাংক থেকে মর্টগেজ সহ অন্যান্য সকল ব্যবস্থা করছে ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স। বিশেষ করে ডলার বন্ড, ডলারে নিটা একাউন্টে শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ, এফডিআই বা ইন্ডাস্ট্রি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং অফশো’র ব্যাংকিং।এসব বিনিয়োগ ক্ষেত্রে অনাবাসী বাংলাদেশীদের এনআইডি কার্ড, দ্বৈত ন্যাশনালিটি সার্টিফিকেট বা বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকা বাঞ্ছনীয়। কর্মকর্তাদ্বয় তাদের এই উদ্যোগকে নিরাপদ এবং বিশ্বস্ত অভিহিত করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে আহ্বান জানান অনাবাসী বাংলাদেশীদের প্রতি।
আবাসন সংবাদ
ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে
ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে এমন মত দিয়েছেন ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্র ও গতকাল শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্পের ঘটনা এমন ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা যত কম হবে, তত বেশি ঝাঁকুনি হবে। শুক্রবারের ভূকম্পনের তীব্রতা ছিল স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এ ভূমিকম্পের ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। আহত হন ৬ শতাধিক মানুষ।
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এবং সাড়ে সাত ঘণ্টার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আরও একটি ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এ ভূমিকম্প দুটোরই উৎপত্তি ছিল নরসিংদী। সন্ধ্যায় কাছাকাছি সময়ে আরও একটি ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডা; যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭।
এসব মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন ভূমিকম্প ঢাকার ঝুঁকি কতটা স্পষ্ট করছে, তা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নথিভুক্ত ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে ৩৯টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে। এর মধ্যে ১১টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে। অর্থাৎ ২৮ শতাংশের বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ৩ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৭। এর মধ্যে শুক্রবার নরসিংদীতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার (৫ দশমিক ৬) ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ঢাকার ১০০ থেকে ২৬৭ কিলোমিটারের মধ্যে বাকি ২৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল।
পাঁচ বছরে ১৮ জেলায় ভূমিকম্প হয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, রংপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, পাবনা, হবিগঞ্জ, রাঙামাটি, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, যশোর ও কুড়িগ্রাম।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রে একসময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন মো. মমিনুল ইসলাম। এখন তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নরসিংদীতে এর আগেও ভূমিকম্প হয়েছে। তবে মাত্রা ছিল কম। বাংলাদেশের সীমান্তে তিনটি টেকটনিক প্লেট আছে। এই তিনটি প্লেটই সক্রিয়। প্রতিনিয়ত এখানে ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। প্লেট বাউন্ডারির পাশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকে।
মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে একটি সাব-ফল্ট রয়েছে। নরসিংদীতে আগে ছোট ভূমিকম্প হলেও গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এখন বোঝা যাচ্ছে, এই সাব-ফল্ট অনেক বড়। এটা ঢাকার কাছ পর্যন্ত চলে এসেছে। এই ভূমিকম্প প্রমাণ করল ঢাকা বড় ঝুঁকির মধ্যে।
বেশি ভূমিকম্প রাতে
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হওয়া ৩৯টি ভূমিকম্প কোন সময় হয়েছে, সেটিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে এসেছে। এতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভূমিকম্প হয়েছে রাতে। যেমন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়ে ভূমিকম্প হয়েছে ২৩টি। বাকি ১৬টি ভূমিকম্প হয়েছে দিনের বেলায় (ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা)।
রাতে বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে অথবা বাসায় থাকে। এমন সময়ে ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যে পরিমাণ ভূমিকম্পের শক্তি সাবডাকশন জোনে (দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থল) পুঞ্জীভূত হয়ে আছে, তার ১ শতাংশের কম নির্গত হয়েছে। ফলে বারবার হওয়া এই ভূকম্পগুলো বড় একটি ভূমিকম্পের পথ খুলে দিয়েছে।
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার আরও বলেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর ‘আফটার শক’ হবে, এমনটা আগেই ধারণা করা হয়েছিল। তবে আফটার শকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভূ-অভ্যন্তরের যে ফাটল বা ফল্ট লাইনটি এত দিন ধরে প্রচণ্ড চাপে একে অপরের সঙ্গে আটকে ছিল, তা নড়তে শুরু করেছে এবং শক্তি নির্গমনের একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে। এমন আফটার শক হতে হতে বড় ভূমিকম্প হবে। সেটা খুবই নিকটে হতে পারে।
ঝুঁকির চার কারণ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব হাসান চারটি কারণে ঢাকার বিপদটা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উৎপত্তিস্থল থেকে ঢাকার নৈকট্য একটা কারণ। ঢাকার কাছে এ ফল্টটা সম্পর্কে এত স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সেটা এখন খুলতে শুরু করেছে। যার প্রভাবে সামনে আরও ভূমিকম্প হতে পারে।
মাটির গঠনকে দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রাকিব হাসান বলেন, ঢাকার নতুন অংশগুলো খুব নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে গড়ে উঠেছে। এমন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তৃতীয়ত, ঢাকার ভবনগুলো ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ডিজাইন কোড মেনে হচ্ছে না। চার নম্বর হলো ঢাকা শহরের জনঘনত্ব। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে।
প্রস্তুতি কেমন
২০১৬ সালে ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার নির্মাণে চীনের সঙ্গে চুক্তি হলেও গত এক দশকে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ সেন্টার নির্মাণে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় জায়গাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তেজগাঁওয়ে এক একর জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবন নির্মাণ করতে গেলে নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য কমপক্ষে আরও ২৫ বর্গমিটার জায়গা থাকা দরকার। সেটা পাওয়া যায়নি।
দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। বড় দুর্যোগের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার জন্য আরও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে আমরা সে সংগ্রহ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা উপকূলে আমাদের ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক আছেন। নগরে আছে ৪৮ হাজার। তাঁদের যুক্ত করে মানুষকে ভূমিকম্প নিয়ে সচেতন করার কাজ শুরু করব।’
তবে প্রস্তুতি ও করণীয় দিকগুলো যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন দুর্যোগ ফোরামের সদস্যসচিব গওহর নঈম ওয়ারা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জেলা পর্যায়ে চিঠি দিয়েছে দুর্যোগের তথ্য দেওয়ার জন্য। এ ধরনের দুর্যোগে এমনিতে তথ্য আসার কথা। সেটার জন্য চিঠি দিতে হবে কেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নরসিংদীর দুর্যোগের তথ্য আসতে লেগেছে এক দিনের বেশি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারের জায়গা নেই জানিয়ে গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, যে দেশগুলো স্থানীয় সরকারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আছে। দুর্যোগ নিয়ে সচেতনতার বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে ছাত্ররা লাফিয়ে পড়েছে। এ রকম কেন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব চর্চা করায় না। এটা স্কুল থেকে শেখাতে হবে।
আবাসন সংবাদ
ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিন বন্ধ ঘোষণা
ভূমিকম্প–পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও পরাঘাতের কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তার দিক সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁরা ভূমিকম্প–পরবর্তী আবাসিক হলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার বলে মতামত দেন। ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কারের স্বার্থে আবাসিক হলগুলো খালি করার কথাও বলেন তাঁরা।
এ পটভূমিতে সভায় আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং আবাসিক হলগুলো খালি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই আগামীকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছেড়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাধ্যক্ষদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
তবে বন্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো যথারীতি খোলা থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছিল।
-
বিবিধ2 years agoবাংলাদেশে প্রচলিত বাড়ি ভাড়ার চুক্তি, নিয়ম ও নীতিমালা
-
নির্বাচিত প্রতিবেদন2 years agoরিয়েল এস্টেট ব্যবসা করবেন যেভাবে
-
আবাসন সংবাদ3 months agoরাজউকের নির্দেশে নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি বন্ধ
-
আইন-কানুন3 months agoদলিলে লেখা এসব শব্দের অর্থ জেনে রাখুন, নাহলে পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়
-
আবাসন সংবাদ3 months agoসীমান্ত রিয়েল এস্টেট এর অনুমোদনহীন সীমান্ত সিটি ও সীমান্ত কান্ট্রি প্রকল্প
-
আইন-কানুন2 years agoরিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের সাথে জমি বা ফ্ল্যাট নিয়ে সমস্যা ও তার প্রতিকার (১ম পর্ব)
-
আবাসন সংবাদ3 months agoপ্রিমিয়াম হোল্ডিংয়ের বর্ষপূর্তিতে ৩ দিনব্যাপী একক আবাসন মেলা অনুষ্ঠিত
-
আবাসন সংবাদ11 months agoবন্ধ হচ্ছে অবৈধ আবাসন প্রকল্প
