আবাসন সংবাদ
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তৈরি ফ্ল্যাট পেতে চান সরকারি কর্মকর্তারা
রাজধানীর প্রথম দ্রুতগতির উড়ালসড়ক ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বিমানবন্দর-মগবাজার-যাত্রাবাড়ীর মধ্যে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ উড়ালসড়ক নির্মাণের কারণে যেসব ব্যক্তি জমি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্য ঢাকার উত্তরা আবাসিক এলাকায় ১ হাজার ৩৪৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পের ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা অনুযায়ী, কেবল ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফ্ল্যাটগুলো তৈরি হওয়ার পর এ নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দের জন্য যোগ্য হবেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে উত্তরা মডেল টাউন (তৃতীয় ফেজ) সংলগ্ন বড়কাঁকর, বাউনিয়া ও দ্বিগুণ মৌজায়। এজন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি ‘পুনর্বাসন ভিলেজ’।
এখানে দুটি ব্লকে ভাগ করে ১২টি ভবনে ফ্ল্যাটগুলো তৈরি হয়েছে। প্রতিটি ভবন ১৪ তলা। ব্লক-‘এ’র ফ্ল্যাটগুলো ১ হাজার ২৯৪ বর্গফুট আয়তনের। পার্কিং সুবিধাসহ প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা। পার্কিং সুবিধা বাদে ফ্ল্যাটগুলোর দাম পড়বে ৫১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ব্লক-‘বি’তে নির্মিত ফ্ল্যাটগুলো ১ হাজার ৯০ বর্গফুট আয়তনের। পার্কিং সুবিধাসহ প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। পার্কিং সুবিধা ছাড়া ফ্ল্যাটগুলোর নির্ধারিত দাম ৪০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পুনর্বাসন ভিলেজে নির্মিত এসব ফ্ল্যাটের পাশাপাশি বিদ্যালয়, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, কমিউনিটি মার্কেট, কমিউনিটি ক্লিনিক, খেলার মাঠ, সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন, ইলেকট্রিক্যাল সাব-স্টেশন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেন, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পুনর্বাসন ভিলেজটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামের আলাদা একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে।
ফ্ল্যাটগুলোর বরাদ্দের জন্য একটি নীতিমালাও তৈরি করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পুনর্বাসন ভিলেজে ক্ষতিগ্রস্তদের অনুকূলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালার ধারা ২, অনুচ্ছেদ ১-এ বলা আছে, কেবলমাত্র ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিগণ ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সম্প্রতি এ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিগণ ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরবর্তীতে অগ্রগণ্যতার ক্রম অনুযায়ী খালি থাকা সাপেক্ষে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের চলমান প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেতু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং অবশিষ্ট ফ্ল্যাট উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া যাবে। নীতিমালা সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন হলে ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠবেন সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা সংশোধনের এ উদ্যোগটিকে ‘নীতিমালার লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনাগুলো হতাশাব্যঞ্জক। তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু দেখি না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এমনিতেই নানা সুযোগ পেয়ে থাকেন। আমি মনে করি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা এসব ফ্ল্যাট প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদেরই বরাদ্দ দেয়া উচিত।’
তবে এ নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং আরো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন সরকারের সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হোসেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট দেয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ ১১৪ তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৫ জুন। আমরা প্রস্তাব তুলেছিলাম, অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তসহ আরো কিছু ধরন যুক্ত করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা সংশোধনের। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে বিষয়টি আরো পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনা করে বিষয়টি সেতু কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পরিচালনা পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে।’
ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফ্ল্যাটগুলোয় আরো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে সুযোগ করে দিতে অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদেরও বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে যে পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বাইরেও অন্যান্য প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের ফ্ল্যাট বরাদ্দের সুযোগ থাকায় এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’
সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, ১ হাজার ৩৪৪টি ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে এখন পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ২৬১টি। এমন প্রেক্ষাপটে অবশিষ্ট ফ্ল্যাটগুলো ‘খালি থাকা সাপেক্ষে’ সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বেসরকারি জমির পরিমাণ কম হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা কম হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক। এক সময় প্রকল্পটিতে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, ‘এ প্রকল্পের জন্য বেসরকারি জমি খু্ব বেশি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সংখ্যা কম হতে পারে। তবে ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণের আগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নিয়ে যথাযথভাবে সমীক্ষা করা প্রয়োজন ছিল।’
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জন্য সব মিলিয়ে ২০৫ দশমিক ৮৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি জমি ১৭৬ দশমিক ৮৪ একর। সিংহভাগ সরকারি জমির মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। মাত্র ২৯ দশমিক শূন্য ২ একর জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন।
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটগুলোকে সেতু কর্তৃপক্ষ ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দ দেয়ার উদ্যোগটি প্রতিষ্ঠান দুটির জন্য ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সেতু বিভাগের অধীনে এ নীতিমালা হয়েছে। এখানে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমি মনে করি, তারা তাদের স্বার্থেই নীতিমালা পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনাও কিন্তু এক ধরনের দুর্নীতি। দুর্নীতি মানে শুধু লুটপাট বা চুরি করা নয়; এ ধরনের ঘটনাগুলোও দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। এই যে নিয়ম-নীতি, পদ্ধতি-এগুলো অপব্যবহার করে, নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করা এটাও দুর্নীতি। এ ধরনের ঘটনা শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, যারা নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত, আমি মনে করি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’
আবাসন সংবাদ
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তাকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জাকারিয়া তাহের। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে কুমিল্লা শহর ও নির্বাচনি এলাকা বরুড়ায় আনন্দের বন্যা বইছে।
জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে উপ-নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
জাকারিয়া তাহের বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত একেএম আবু তাহের একই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের (সুমন)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পন্ন করা জাকারিয়া তাহের ১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭টি। কুমিল্লা-৮ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন; যা প্রদত্ত ভোটের ৫৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৫৬০ টাকার।
আবাসন সংবাদ
রাসিক মেয়র থেকে ভূমি মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে রাজশাহীর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন মিজানুর রহমান মিনুসহ ২৫ জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট।
মঙ্গলবার বিকেলে পিআইডির আয়োজনে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয় শপথ অনুষ্ঠান। শপথের পরপরই আনন্দে ফেটে পড়েন সাধারণ জনতা। দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর রাজশাহী থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়া গেছে। এটি রাজশাহীর জন্য বেশ আনন্দের। আমরা চাই, তার মাধ্যমে রাজশাহীতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করবেন।’
মন্ত্রী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তো বটেই, রাজশাহীর জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমি এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করতে পারব।’
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মিনু ঘোষণা দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদাররা যে দলেরই হোক, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে রাজশাহীকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আবারও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যা করার প্রয়োজন, সেটাই করা হবে।’
মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র নির্বাচিত হয়ে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান মিনু। ২০০১ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিলেন। রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে মিনুর অভিভাবকত্ব প্রায় আড়াই দশকের। যুবদল নেতা থাকাকালে মেয়র এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘ সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালনের পর সবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ পান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে (তৎকালীন রাজশাহী-১ আসন) এমরান আলী সরকার জয়ী হন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ও আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
-
বিবিধ2 years agoবাংলাদেশে প্রচলিত বাড়ি ভাড়ার চুক্তি, নিয়ম ও নীতিমালা
-
নির্বাচিত প্রতিবেদন2 years agoরিয়েল এস্টেট ব্যবসা করবেন যেভাবে
-
আবাসন সংবাদ6 months agoরাজউকের নির্দেশে নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি বন্ধ
-
আইন-কানুন2 years agoরিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের সাথে জমি বা ফ্ল্যাট নিয়ে সমস্যা ও তার প্রতিকার (১ম পর্ব)
-
আইন-কানুন6 months agoদলিলে লেখা এসব শব্দের অর্থ জেনে রাখুন, নাহলে পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়
-
বিবিধ2 years agoফ্ল্যাট বা অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্র নমুনা
-
আবাসন ক্যারিয়ার2 years agoসিরামিক ইঞ্জিনিয়ার হতে চান, তাহলে জানতে হবে যে বিষয়গুলো
-
আবাসন সংবাদ6 months agoসীমান্ত রিয়েল এস্টেট এর অনুমোদনহীন সীমান্ত সিটি ও সীমান্ত কান্ট্রি প্রকল্প
