আবাসন সংবাদ
পুরান ঢাকা আবাসন মেলায় তিন প্রকল্প নিয়ে ভাইয়া হাউজিং
রাজধানীতে অবস্থানরত নগরবাসীকে রেডি প্লট ও ফ্র্যাট কেনার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করতে এবং আগ্রহী ক্রেতাদের সহজে জমির প্লট খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে শুরু হলো ‘পুরান ঢাকা আবাসন মেলা ২০২৪’।
মেলায় তিনটি আবাসন প্রকল্পের রেডি প্লট ও কক্সবাজারে হোটেলের শেয়ার নিয়ে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করছে ভাইয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভাইয়া হাউজিং লিমিটেড।
বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বাংলা ইভেন্ট ইন্টারন্যাশনালের আয়োজনে ঢাকার ওয়ারীর গ্র্যান্ড তাজ বুফে কনভেনশন সেন্টার এ কে ফেমাস টাওয়ার (আড়ং বিল্ডিং), ৪১ র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের মিলনায়তনে এই মেলা শুরু হয়।
ফিতা কেটে মেলা উদ্বোধন করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ রায়হান কাওছার। এস সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলা ইভেন্ট ইন্টারন্যাশনাল সিইও মো. ইসলাম শেখ এবং অংশগ্রহণকারী আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ।
ভাইয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ ভাইয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভাইয়া হাউজিং লিমিটেড সুনামের সাথে আবাসন খাতে ব্যাবসায়িক সেবা প্রদান করে আসছে। ভাইয়া হাউজিংয়ের তিনটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হলো, ‘পূর্বাচল টিউলিপ ভ্যালি’, ‘পূর্বাচল পাইন সিটি’ ও ‘বীরতারা সিটি’। রাজধানীতে বসবাসরত মানুষের ক্রয় ক্ষমতা, সাধ ও সাধ্যের কথা ভেবে এসব প্রকল্পে সুলভ মূল্যে স্বপ্নের প্লট পাওয়া যাচ্ছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, ঢাকা পূর্বাচল ৩০০ ফিটের কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে ভুলতা-গাউসিয়া ব্রিজ থেকে মাত্র ২ মিনিটের দুরত্বে ভাইয়া গ্রপের ‘টিউলিপ ভ্যালি’ অবস্থিত। রাজউক পূর্বাচল নিউ টাউনের পাশে ঢাকা সিলেট ২০০ ফিট মহাসড়ক সংলগ্ন এশিয়ার বৃহত্তম জাপান বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনের (জাইকা) সাথেই গড়ে উঠেছে এই নান্দনিক ‘টিউলিপ ভ্যালি’ আবসন প্রকল্প। বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত প্লট পাওয়া যাচ্ছে ৩, ৫ ও ১০ কাঠা পরিমাণে। আগ্রহী ক্রেতা জমি কিনে মূল্য পরিশোধের সাথে সাথে সাফ-কবলা দলিলসহ রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার রয়েছে উন্নত ও মানসম্মত ব্যবস্থা।
>>আরও পড়ুন: তিন প্রকল্প নিয়ে পুরান ঢাকা আবাসন মেলায় প্রিমিয়াম হোল্ডিংস
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আধুনিকভাবে জীবনযাপনের জন্য সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে স্নিগ্ধ ও নিরিবিলি, পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের স্বনামধন্য কোম্পানি ভাইয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ভাইয়া হাউজিং লিমিটেডের আবাসন প্রকল্প ‘বীরতারা সিটি’। প্রকল্পটি ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে সংলগ্ন রিভারভিউ স্মার্ট সিটিটিতে রয়েছে আধুনিক নাগরিক জীবনের সব ধরনের উপকরণ। চারদিকে রয়েছে মানুষের বসবাস। রয়েছে উন্নত ও অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রকল্পের উভয়দিকে রয়েছে সরকারি প্রশস্ত রাস্তা। আগ্রহী ক্রেতা জমি কিনে মূল্য পরিশোধের সাথে সাথে সাফ-কবলা দলিলসহ রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার রয়েছে উন্নত ও মানসম্মত ব্যবস্থা।
>>আরও পড়ুন: পুরান ঢাকা আবাসন মেলা শুরু
বীরতারা সিটি ও পাইন সিটি নামের পরিবেশবান্ধব ও মনোমুগ্ধকর দুটি আবাসনে মূল্য পরিশোধের সাথে সাথে রেজিস্ট্রেশন সুবিধা দিচ্ছে ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। সাথে সাথে কোম্পানিটি দিচ্ছে সুলভ মূল্যে কিস্তিতে প্লট ক্রয়ের সুযোগ। পরিবেশবান্ধব প্রকল্প দুটি দেশের আবাসন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের শিল্পোন্নয়নে অনবদ্য অবদান রেখে যাচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ভোগ্য পণ্য ব্যবসায় ভাইয়া গ্রুপ ছিল অগ্রদূত। তারই ধারাবাহিকতায় একের পর এক রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন করে অসংখ্য বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এই ব্যবসায়িক গ্রুপটি। দেশের স্বনাম ধন্য ভাইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানিটির ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আবাসনখাতে উল্লেখযোগ্য হলো, রিয়েল অ্যাস্টেট বিজনেসে ভাইয়া হাউজিং লিমিটেড, হোটেল, রিসোর্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী অন্যতম।
>>আরও পড়ুন: রাজধানীর মতিঝিলে কেডি প্রপার্টিসের ঈদ আবাসন মেলা শুরু ৮ জুন
ঢাকায় চাকরি করে টাকা জমিয়ে অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন যাদুর নগরী ঢাকার আশপাশে কোথাও তিন বা পাঁচ কাঠা জমি কিনে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার। কিন্তু তারা জানেন না কোথায় গেলে, কোন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছে গেলে মিলবে সঠিক ও কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের সেই প্লটের সন্ধান। ‘পুরান ঢাকা আবাসন মেলা ২০২৪’-এ মিলবে সঠিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সন্ধান।
মেলায় রাজধানীর রিয়েল এসস্টেট কোম্পানিগুলো তাদের প্রকল্পের রেডি প্লট ও ফ্র্যাট এবং রিসোর্ট ও ৫ তারকা হোটেল-এর শেয়ারের সাথে আগ্রহী ও স্বপ্নবাজ ক্রেতাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। সেসাথে আবাসন খাতের বিভিন্ন ব্যবসা নগরবাসীর সামনে তুলে ধরছে।
>>আরও পড়ুন: পুরান ঢাকা আবাসন মেলায় এসেন্ড গ্রুপের চার প্রকল্পে ৩০% মূল্য ছাড়
আয়োজকরা জানিয়েছে, তিন দিনব্যাপী ওয়ারী আবাসন মেলা ২০২৪-এ থাকছে ঢাকা , পূর্বাচল , কেরানীগঞ্জ , মাওয়া হাইওয়ে রোড এর বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির প্লট, ফ্ল্যাট, কমার্শিয়াল স্পেস এবং কক্সবাজার, কুয়াকাটা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন পর্যটন এরিয়াতে বিভিন্ন রিসোর্ট ও ৫ তারকা হোটেল-এর শেয়ার অথবা মালিকানার সুযোগ।
মেলায় ছাড় ও অফারের বিষয়ে আয়োজকরা আরও জানিয়েছে, মেলায় বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থাকছে ১০ থেকে ৩০% বিশেষ মূল্য ছাড় এবং বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় উপহার সামগ্রী।
মেলায় গোল্ড স্পন্সর-এইচ আর গ্রুপ, ওয়েল কেয়ার গ্রুপ, মারমেইড গ্রুপ, কো-স্পন্সর-প্রিমিয়াম হোল্ডিংস, শালবন ইকো রিসোর্টস এবং আই জি এল গ্রুপ, এম আই গ্রুপ সহ আরও অন্যান্য আবাসন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।
মেলার ও প্রকল্পগুলোর যেকোনো বিষয়ে জানা যাবে এই 01404-441895, 01958524844 । ওয়েব সাইটে দেখা যাবে এই ঠিকানায়।
প্রতিদিন মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বিনা মূল্যে মেলায় প্রবেশ করা যাবে। সবার জন্য মেলা উন্মুক্ত। মেলা চলবে ৮ জুন, শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত।
আবাসন সংবাদ
ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে
ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে এমন মত দিয়েছেন ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্র ও গতকাল শনিবার প্রায় ৩১ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা ও এর আশপাশে চারটি ভূমিকম্পের ঘটনা এমন ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎস ছিল নরসিংদীর মাধবদী। উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে উৎপত্তিস্থলের গভীরতা যত কম হবে, তত বেশি ঝাঁকুনি হবে। শুক্রবারের ভূকম্পনের তীব্রতা ছিল স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তীব্র ঝাঁকুনিতে কেঁপে ওঠে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। এ ভূমিকম্পের ঘটনায় শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। আহত হন ৬ শতাধিক মানুষ।
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে গতকাল সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩ দশমিক ৩ মাত্রার এবং সাড়ে সাত ঘণ্টার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আরও একটি ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩। এ ভূমিকম্প দুটোরই উৎপত্তি ছিল নরসিংদী। সন্ধ্যায় কাছাকাছি সময়ে আরও একটি ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল রাজধানীর বাড্ডা; যার মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৭।
এসব মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন ভূমিকম্প ঢাকার ঝুঁকি কতটা স্পষ্ট করছে, তা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নথিভুক্ত ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে ৩৯টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ ভূখণ্ডের ভেতরে। এর মধ্যে ১১টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে। অর্থাৎ ২৮ শতাংশের বেশি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছে। এসব ভূমিকম্পের মাত্রা ৩ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৭। এর মধ্যে শুক্রবার নরসিংদীতে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার (৫ দশমিক ৬) ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে। বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ঢাকার ১০০ থেকে ২৬৭ কিলোমিটারের মধ্যে বাকি ২৮টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল।
পাঁচ বছরে ১৮ জেলায় ভূমিকম্প হয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেট, নেত্রকোনা, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, রংপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, পাবনা, হবিগঞ্জ, রাঙামাটি, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, যশোর ও কুড়িগ্রাম।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রে একসময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন মো. মমিনুল ইসলাম। এখন তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, নরসিংদীতে এর আগেও ভূমিকম্প হয়েছে। তবে মাত্রা ছিল কম। বাংলাদেশের সীমান্তে তিনটি টেকটনিক প্লেট আছে। এই তিনটি প্লেটই সক্রিয়। প্রতিনিয়ত এখানে ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। প্লেট বাউন্ডারির পাশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকে।
মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, নরসিংদীতে একটি সাব-ফল্ট রয়েছে। নরসিংদীতে আগে ছোট ভূমিকম্প হলেও গুরুত্ব দেওয়া হতো না। এখন বোঝা যাচ্ছে, এই সাব-ফল্ট অনেক বড়। এটা ঢাকার কাছ পর্যন্ত চলে এসেছে। এই ভূমিকম্প প্রমাণ করল ঢাকা বড় ঝুঁকির মধ্যে।
বেশি ভূমিকম্প রাতে
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে হওয়া ৩৯টি ভূমিকম্প কোন সময় হয়েছে, সেটিও আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণে এসেছে। এতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভূমিকম্প হয়েছে রাতে। যেমন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়ে ভূমিকম্প হয়েছে ২৩টি। বাকি ১৬টি ভূমিকম্প হয়েছে দিনের বেলায় (ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা)।
রাতে বেশির ভাগ মানুষ ঘুমিয়ে অথবা বাসায় থাকে। এমন সময়ে ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ভূমিকম্পবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যে পরিমাণ ভূমিকম্পের শক্তি সাবডাকশন জোনে (দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থল) পুঞ্জীভূত হয়ে আছে, তার ১ শতাংশের কম নির্গত হয়েছে। ফলে বারবার হওয়া এই ভূকম্পগুলো বড় একটি ভূমিকম্পের পথ খুলে দিয়েছে।
অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার আরও বলেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর ‘আফটার শক’ হবে, এমনটা আগেই ধারণা করা হয়েছিল। তবে আফটার শকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভূ-অভ্যন্তরের যে ফাটল বা ফল্ট লাইনটি এত দিন ধরে প্রচণ্ড চাপে একে অপরের সঙ্গে আটকে ছিল, তা নড়তে শুরু করেছে এবং শক্তি নির্গমনের একটি প্রক্রিয়া চালু করেছে। এমন আফটার শক হতে হতে বড় ভূমিকম্প হবে। সেটা খুবই নিকটে হতে পারে।
ঝুঁকির চার কারণ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক রাকিব হাসান চারটি কারণে ঢাকার বিপদটা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, উৎপত্তিস্থল থেকে ঢাকার নৈকট্য একটা কারণ। ঢাকার কাছে এ ফল্টটা সম্পর্কে এত স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সেটা এখন খুলতে শুরু করেছে। যার প্রভাবে সামনে আরও ভূমিকম্প হতে পারে।
মাটির গঠনকে দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রাকিব হাসান বলেন, ঢাকার নতুন অংশগুলো খুব নিচু জায়গায় মাটি ভরাট করে গড়ে উঠেছে। এমন অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তৃতীয়ত, ঢাকার ভবনগুলো ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ডিজাইন কোড মেনে হচ্ছে না। চার নম্বর হলো ঢাকা শহরের জনঘনত্ব। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে।
প্রস্তুতি কেমন
২০১৬ সালে ভূমিকম্পের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল অপারেশন সেন্টার নির্মাণে চীনের সঙ্গে চুক্তি হলেও গত এক দশকে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ সেন্টার নির্মাণে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় জায়গাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার যুগ্ম সচিব আবু দাউদ মো. গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, তেজগাঁওয়ে এক একর জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবন নির্মাণ করতে গেলে নির্মাণসামগ্রী রাখার জন্য কমপক্ষে আরও ২৫ বর্গমিটার জায়গা থাকা দরকার। সেটা পাওয়া যায়নি।
দুর্যোগের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের জন্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। বড় দুর্যোগের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সংস্থার জন্য আরও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে আমরা সে সংগ্রহ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা উপকূলে আমাদের ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক আছেন। নগরে আছে ৪৮ হাজার। তাঁদের যুক্ত করে মানুষকে ভূমিকম্প নিয়ে সচেতন করার কাজ শুরু করব।’
তবে প্রস্তুতি ও করণীয় দিকগুলো যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন দুর্যোগ ফোরামের সদস্যসচিব গওহর নঈম ওয়ারা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জেলা পর্যায়ে চিঠি দিয়েছে দুর্যোগের তথ্য দেওয়ার জন্য। এ ধরনের দুর্যোগে এমনিতে তথ্য আসার কথা। সেটার জন্য চিঠি দিতে হবে কেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নরসিংদীর দুর্যোগের তথ্য আসতে লেগেছে এক দিনের বেশি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারের জায়গা নেই জানিয়ে গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, যে দেশগুলো স্থানীয় সরকারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আছে। দুর্যোগ নিয়ে সচেতনতার বিষয়টি পাঠ্যসূচিতে থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে ছাত্ররা লাফিয়ে পড়েছে। এ রকম কেন হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব চর্চা করায় না। এটা স্কুল থেকে শেখাতে হবে।
আবাসন সংবাদ
ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিন বন্ধ ঘোষণা
ভূমিকম্প–পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও পরাঘাতের কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তার দিক সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁরা ভূমিকম্প–পরবর্তী আবাসিক হলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার বলে মতামত দেন। ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কারের স্বার্থে আবাসিক হলগুলো খালি করার কথাও বলেন তাঁরা।
এ পটভূমিতে সভায় আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং আবাসিক হলগুলো খালি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই আগামীকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছেড়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাধ্যক্ষদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
তবে বন্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো যথারীতি খোলা থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে আজ রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছিল।
-
বিবিধ2 years agoবাংলাদেশে প্রচলিত বাড়ি ভাড়ার চুক্তি, নিয়ম ও নীতিমালা
-
নির্বাচিত প্রতিবেদন2 years agoরিয়েল এস্টেট ব্যবসা করবেন যেভাবে
-
আবাসন সংবাদ3 months agoরাজউকের নির্দেশে নর্থ সাউথ গ্রীন সিটি বন্ধ
-
আইন-কানুন3 months agoদলিলে লেখা এসব শব্দের অর্থ জেনে রাখুন, নাহলে পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়
-
আবাসন সংবাদ3 months agoসীমান্ত রিয়েল এস্টেট এর অনুমোদনহীন সীমান্ত সিটি ও সীমান্ত কান্ট্রি প্রকল্প
-
আইন-কানুন2 years agoরিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের সাথে জমি বা ফ্ল্যাট নিয়ে সমস্যা ও তার প্রতিকার (১ম পর্ব)
-
আবাসন সংবাদ3 months agoপ্রিমিয়াম হোল্ডিংয়ের বর্ষপূর্তিতে ৩ দিনব্যাপী একক আবাসন মেলা অনুষ্ঠিত
-
আবাসন সংবাদ11 months agoবন্ধ হচ্ছে অবৈধ আবাসন প্রকল্প
