Connect with us

আবাসন সংবাদ

ইমারত বিধিমালা ২০২৪ খসড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন আবাসন ব্যবসায়ীরা

ইমারত বিধিমালা ২০২৪ খসড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন আবাসন ব্যবসায়ীরা

নিয়মিত অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন নগরবাসী। ভূমিকম্প আতঙ্কও কম নয়। চলতি বছর তাপপ্রবাহও ভাবিয়েছে নগরায়ণ নিয়ে। ঢাকায় ভবন তৈরিতে নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয় না ইমারত বিধিমালা। যে কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কঠিন হয় সামাল দেওয়া।

এসব বিষয় মাথায় রেখেই ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়ায় আনা হয়েছে বেশকিছু পরিবর্তন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) পুনর্বিন্যাসে। ফারের মাধ্যমে ভবনের উচ্চতা, ফ্ল্যাটের আয়তন, কতগুলো ফ্ল্যাট হবে সেটা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে নতুন বিধিমালায়। এতে বিল্ডিংয়ের উচ্চতা কমবে এবং ভবন পরিবেশবান্ধব হবে বলছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

‘নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন কমবে। ফলে কমবে ফ্ল্যাটের সংখ্যা। ব্যবসায়ীরা আবাসন খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। শুধু আমরা না, জমির মালিকও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মধ্যবিত্তকে ফ্ল্যাটের আশা ছেড়ে দিতে হবে।’-আবাসন ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী ভূঁইয়া

তবে আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইমারত বিধিমালা ২০২৪ এর খসড়া পাস হলে ফারের কারণে মুখ থুবড়ে পড়বে আবাসন ব্যবসা। সরকার হারাবে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। আবাসনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক, জমির মালিকও পড়বেন ক্ষতির মুখে। জমির সংকট দেখা দেবে, চাপ বাড়বে কৃষিজমির ওপর। ব্যাহত হবে পরিবেশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা পাস হলেই দুই থেকে তিন বছর সময় পাবেন উদ্যোক্তারা। এরপর অর্থাৎ আগামী দুই বছর পরে বর্তমানে যেসব ফ্ল্যাট প্রতি স্কয়ার ফুট সাত হাজার টাকায় কেনা যাচ্ছে, সেটা ১০ হাজার টাকায় কিনতে হবে।

Advertisement

আর রড-সিমেন্টের দাম বাড়লে ১০ হাজারের সঙ্গে আরও বর্ধিত দাম যোগ হবে। অর্থাৎ উচ্চবিত্তদের জন্যই হবে ফ্ল্যাট, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। পাশাপাশি সিংহভাগ ডেভেলপার কোম্পানি টিকতে পারবে না।

বলা হয়েছে-কোনো এলাকার ফার আড়াই (২.৫) এবং সেখানে প্লটের ফার যদি তিন নির্ধারণ করা হয়, তবে রাজউক প্রণীত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) মতে সর্বনিম্ন ফার কাউন্ট করতে হবে। তার মানে এখানে কাউন্ট হবে আড়াই। এতে রাস্তা বড় হওয়া সত্ত্বেও কমে আসবে বিল্ডিংয়ের উচ্চতা। প্লট সংলগ্ন রাস্তার ফারকে বেসিক ধরলে বিল্ডিংটা আরও একটু বড় হবে। আবার ফ্ল্যাটের আয়তনও বাড়বে।

এখানে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে সবকিছু। যেমন কোন জমিতে কতটি ইউনিট, ফ্ল্যাট কতটা হবে সেটা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এখানে আয়তনও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ খসড়া পাস হলে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। পাঁচটার জায়গায় ১০টি ফ্ল্যাট করা যাবে না। পাঁচ কাঠায় ছোট ছোট ইউনিট করে চারটা ফ্ল্যাট করার সুযোগ থাকবে না।

২০ ফুট রাস্তার ফার দুই হলে করা যাবে চারতলা বাড়ি। আর ২০ ফুটের নিচে হলে ফার আরও কমে দেড় বা পৌনে দুই হবে, সেক্ষেত্রে তিন থেকে সাড়ে তিনতলা বাড়ি করা যাবে। এতে জমি দিতে আগ্রহী হবেন না মালিক। কারণ ডেভেলপার কোম্পানিগুলো সাধারণত যেসব জমি নেয় সেখানে দুই থেকে তিনতলা বিল্ডিং ভেঙে ডেভেলপ করে। এখানে জমি ডেভেলপ হলেও বাড়ি তিনতলাই হচ্ছে।

আগের নিয়মে ১৬ ফুট রাস্তায় জমির মালিক রাস্তা ৪ ফুট ছেড়ে দিলে একটু ফার বাড়িয়ে দেওয়া হতো। দাম ছাড়াই রাস্তা ছেড়ে দিলে সরকার একটু ফার দিতো। এতে রাস্তা প্রশস্ত হতো।

Advertisement

খসড়ামতে, ১৬ ফুট রাস্তার ফার দেড় (১.৫)। এখানে রাস্তা ১৬ ফুট আছে, তবে জমির মালিক উভয় পাশে ৪ ফুট ছেড়ে দিলে ২০ হয়। এখানে ফার দুই হয়। অর্থাৎ, এখানে চারতলা বাড়ি করার সুযোগ আছে। জমির দুদিকে ছেড়ে (ইফেক্টিভ সেটব্যাক) দিয়ে আগের নিয়ম অনুযায়ী ফার বাড়ানোর কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমরা চাই প্লট সংলগ্ন রাস্তার ফারকে বেসিক ফার ধরা হোক। এতে বিল্ডিংয়ের উচ্চতা বাড়বে। ফ্ল্যাটের সংখ্যা নির্দিষ্ট, আয়তন নির্দিষ্ট, উচ্চতা নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে এটাও চাই না। এমনটা করা মানে হাত-পা বেঁধে পানিতে ছেড়ে দেওয়া।

ফার এক বাড়ানো হোক। ড্যাপ যা করছে, বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন হোক। সব শ্রেণির ক্ষেত্রে রাস্তার ফার এক বাড়ানো হোক, কমপক্ষে দশমিক ৫ বাড়ানো হোক। এটা হলেও তা ২০০৮ এর বিধিমালার চেয়েও অনেক কম হবে। তবুও কিছুটা স্বস্তি আসবে। হয়তো ব্যবসা টিকে থাকবে।

‘কোনো ধরনের মতামত ছাড়াই ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় যেভাবে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে তাতে সাধারণ নাগরিক, ভূমি মালিক ও ভবন মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’-রিহ্যাব সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান

আবাসন ব্যবসায়ী এবং ব্রিক ওয়ার্কস লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী ভবনের উচ্চতা ও আয়তন কমবে। ফলে ফ্ল্যাটের সংখ্যা কমবে। ব্যবসায়ীরা আবাসন খাতে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন জমির মালিকও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উলম্বভাবে ভবন তৈরির দিকে, আমরা হাঁটছি উল্টো পথে। আমাদের জমির সংকট আগামীতে আরও মারাত্মক হবে। কৃষিজমির ওপর চাপ বাড়বে, মধ্যবিত্তকে ফ্ল্যাটের আশা ছেড়ে দিতে হবে।

Advertisement

এ বিষয়ে মগবাজার এলাকার বাসিন্দা রিপন বলেন, ঋণ নিয়ে আমাদের একটা প্লট নিজেরাই ডেভেলপ করেছি। একটা ব্যবসাও করছি। আরও কিছুটা সময় লাগবে ঋণ পরিশোধ করতে। এখন যে বিধিমালা করা হচ্ছে এতে অন্য জমিটি নষ্ট হবে। আমার জমির চারপাশে ১০-১৩ তলা বিল্ডিং হয়েছে। দুই বছর পর আমাদের তাহলে চারতলা বিল্ডিং করতে হবে?

ঢাকা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০২৪ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব সভাপতি এবং জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, কোনো ধরনের মতামত ছাড়াই ইমারত নির্মাণ বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

বিধিমালা চূড়ান্ত না করার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউককে অনুরোধ জানাই। খসড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় যেভাবে নতুন আইন তৈরি করা হচ্ছে তাতে সাধারণ নাগরিক, ভূমি মালিক ও ভবন মালিকের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবাসনশিল্প।

গত ২১ এপ্রিল কার্বন নিঃসরণহীন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

‘২০০৮ সালের বিধিমালা যেটা হয়েছিল সেটা বিজ্ঞানসম্মত ছিল না। এখন নগরে সবুজ নেই, রাস্তা নেই। নতুন যে বিধিমালা করা হয়েছে সেটা শুধু বাস্তবসম্মতই নয় বিজ্ঞানসম্মতও।’-ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম

Advertisement

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য যে সব আইন, তা বঙ্গবন্ধু স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রণয়ন করেছিলেন। দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ সেন্টারও তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরিবেশ সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কার্বন নিঃসরণহীন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উদ্ভাবনে গবেষণার জন্য এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।

এ বিষয়ে কথা হলে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ ও ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এর আগে ২০০৮ সালের বিধিমালা যেটা হয়েছিল সেটা বিজ্ঞানসম্মত ছিল না। এখন নগরে সবুজ নেই, রাস্তা নেই। নতুন যে বিধিমালা করা হয়েছে সেটা শুধু বাস্তবসম্মতই নয় বিজ্ঞানসম্মতও।

তিনি বলেন, ফার কম-বেশির কারণে ব্যবসায়ী-ভূমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এটা একটা প্রোপাগান্ডা। কারণ বিল্ডিং কম হলে তো খরচও কম হবে, এতে বাড়তি খরচ বা লোকসানের কিছু নেই। আবার মেট্রো এলাকায় যেখানে ফার বেশি সেখানে অন্য সুবিধাও বেশি এবং বড় বিল্ডিং তৈরির সুযোগ আছে।

এছাড়া সরকার সবার জন্য জনকল্যাণমূলক বাসযোগ্য শহর করতে চায়। আর সেটা গুরুত্ব দিয়েই খসড়া নীতিমালা করা হয়েছে।

Advertisement

আবাসন সংবাদ

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তাকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জাকারিয়া তাহের। তার মন্ত্রী হওয়ার খবরে কুমিল্লা শহর ও নির্বাচনি এলাকা বরুড়ায় আনন্দের বন্যা বইছে।

জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। এর আগে ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে উপ-নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

জাকারিয়া তাহের বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা প্রয়াত একেএম আবু তাহের একই আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর স্থানীয় রাজনীতির হাল ধরে উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের (সুমন)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন বিজনেস ম্যানেজমেন্ট সম্পন্ন করা জাকারিয়া তাহের ১৯৬৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৯১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭টি। কুমিল্লা-৮ আসনে মোট ভোটারসংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন; যা প্রদত্ত ভোটের ৫৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

Advertisement

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার। অন্যদিকে তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদের স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের পরিমাণ ৬০ কোটি ৭৮ লাখ ৭ হাজার ৫৬০ টাকার।

Continue Reading

আবাসন সংবাদ

রাসিক মেয়র থেকে ভূমি মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু

Published

on

By

আবাসন কনটেন্ট কাউন্সিলর

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক ধরে রাজশাহীর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন মিজানুর রহমান মিনুসহ ২৫ জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান মিনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট।

মঙ্গলবার বিকেলে পিআইডির আয়োজনে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয় শপথ অনুষ্ঠান। শপথের পরপরই আনন্দে ফেটে পড়েন সাধারণ জনতা। দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষ এতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর রাজশাহী থেকে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পাওয়া গেছে। এটি রাজশাহীর জন্য বেশ আনন্দের। আমরা চাই, তার মাধ্যমে রাজশাহীতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করবেন।’

Advertisement

মন্ত্রী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তো বটেই, রাজশাহীর জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমি এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করতে পারব।’

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মিনু ঘোষণা দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদাররা যে দলেরই হোক, তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে রাজশাহীকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। আবারও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যা করার প্রয়োজন, সেটাই করা হবে।’

মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র নির্বাচিত হয়ে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান মিনু। ২০০১ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যাচ্ছেন এবং প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিলেন। রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতিতে মিনুর অভিভাবকত্ব প্রায় আড়াই দশকের। যুবদল নেতা থাকাকালে মেয়র এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘ সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালনের পর সবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ পান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে (তৎকালীন রাজশাহী-১ আসন) এমরান আলী সরকার জয়ী হন। তিনি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় ও আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

Advertisement
Continue Reading
Advertisement
Advertisement
আবাসন সংবাদ2 weeks ago

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হলেন জাকারিয়া তাহের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তাকে গৃহায়ন ও...

আবাসন সংবাদ2 weeks ago

রাসিক মেয়র থেকে ভূমি মন্ত্রী হলেন মিজানুর রহমান মিনু

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রায় তিন দশক...

অর্থ ও বাণিজ্য2 months ago

প্রিমিয়াম হোল্ডিং এর ৩ দিন ব্যাপী পিঠা উৎসব ও একক আবাসন মেলা

দেশের অন্যতম সেরা আবাসন কোম্পানী প্রিমিয়াম হোল্ডিং লিমিটেড প্রতি বছরের মতো এবারো বাংলা ও বাঙালীর ঐতিহ্য শীতকালকে উপলক্ষ করে ০৮-১০...

আবাসন সংবাদ2 months ago

৪ দিনব্যাপী আবাসন মেলা শুরু

রাজধানীতে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করেছে রিয়েল এস্টেট হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল শুরু হওয়া এ মেলা চলবে...

আবাসন সংবাদ3 months ago

ভূমিকম্পে ঢাকার বড় বিপদ স্পষ্ট হচ্ছে

ভূমিকম্পে রাজধানী শহর ঢাকার বড় বিপদের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের নৈকট্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও প্রাণহানির ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে...

Advertisement

সর্বাধিক পঠিত